একাত্তর বাংলাঃ ময়মনসিংহ বন বিভাগের আওতাধীন হালুয়াঘাট উপজেলার গোপালপুর বনবিট এলাকায় রঙ্গমপাড়া মৌজায় প্রকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠা শালগাছ এর বাগান থেকে গত কিছুুদিন ধরে জৈনক মোহাম্মদ আলী মাষ্টার নামক এক ব্যক্তি বন বিভাগের সৃজীত বাগান থেকে পর্যায়ক্রমে গাছ কেটে বিক্রয় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে গাছ চোর ও বিড কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করায় এর বিরুদ্ধে তদন্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায় গোপালপুর বনবিট এলাকার রঙ্গমপাড়া মৌজাস্থ পাহাড়ী ভূমিতে প্রকৃতিগতভাবে জন্ম নেয়া বহু পুরাতন শালবন এর গাছ কেটে নেয়ার জন্যে জনৈক মোহাম্মদ আলী মাষ্টার, বনবিট কর্মকর্তা ও বর্তমান বিট কর্মকর্তার সহিত সখ্যতা থাকার সুবাদে পরিকল্পিত ছক অনুযায়ী প্রায় মাসাধীক কাল সময়ের মধ্যে আনুানিক ৪/৫ শত গাছ অবৈধভাবে কেটে নিয়েছে বলে স্থানীয়দের মাঝে অভিযোগ উঠেছে।
এ সকল শালগাছ জনৈক ইদ্রিস এর নিকট বিক্রয় করেন বলেও স্থানীয় এলাকাবাসীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এই মোহাম্মদ আলী মাষ্টার স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী বিধায় স্থানীয় সাধারণ তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেহ কোন প্রকার প্রতিবাদ বা অভিযোগ করতে সাহস পান না।
মোহাম্মদ আলী মাষ্টার ও কারবারী ইদ্রিস আনুমানিক ৭/৮ মাস পূর্বেও অনুরূপভাবে এই রঙ্গমপাড়া পাহাড়ী বন ভূমি থেকে কয়েকশত শাল গাছ কেটে নিয়ে বিক্রয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবী করেন।
এসবের বিরুদ্ধে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নিরীহ স্থানীয় ও আশপাশ এলাকার সাধারন মানুষ উপরোক্ত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেন।
এসব বন খেকো মাষ্টার গং প্রকাশ্যে বলে বেড়ান যে এ সকল শাল গাছ কেটে নেয়ার ব্যাপারে এলাকার কেউ কোন টু শব্দ করেনা। বন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে বলে বেড়ান যে উল্টো তোমাদের বিরুদ্ধে গাছ কাটার বন মামলা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
আরও জানা যায়, উক্ত শাল গাছের কাটা ডোম বা গোল কাঠ হালুয়াঘাট উপজেলাস্থ বাজার সংলগ্ন করাত কলে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে বলে সূত্র জনান। দীর্ঘদিন যাবত শালবন উজাড় প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা বা বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ অফিস কোন আইনী পদক্ষেপ না নেয়ার ফলে উক্ত বাগানের শাল গাছের গুরি ও মূল প্রমানাদী নষ্ট করে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে বলেও সূত্রের সত্যতা মিলে।
বিট অফিস থেকে উক্ত ঘটনাস্থল মাত্র ৪/৫ শত মি: দূরত্ব হবে। বিট কর্মকর্তা ও বর্তমান বিট কর্মকর্তার যোগসাজসে মোহাম্মদ আলী মাষ্টার ও চোরাই কারবারী জনৈক ইদ্রিসের গভীর সখ্যতা বিদ্যমান আছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিবেশ ও বন রক্ষায় এগিয়ে আসার জোর দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। ধীরে ধীরে গাছ কেটে বিক্রী করায় প্রকৃতির বনাঞ্চল সাবার হতে আর বাকি নেই বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বর্তমান বিট কর্মকর্তা ও পুর্ববর্তী বিট কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে এসব ঘটনা সংগঠিত হয় বলে জানা যায়। এই দুই জন বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও ৪ বছর পূর্বের বিট কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ দীর্ঘ উক্ত বিটে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে কোন গাছ কর্তন বা পাচার করার কোন অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসী করেননি।

