একে এম ফখরুল আলম বাপ্পী চৌধুরী ॥
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। সেখানে স্বাধীনতা হরণ-সেখানে দায়িত্বশীলতা কতটুকু পালন সম্ভব ? সাংবাদিকদের আচরণবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বাস্তবে সাংবাদিকতা ও নৈতিকতা একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়। পেশাগতভাবে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় বেশ কিছু নৈতিক ধারনা মেনে চলতে হয়। যেমন: স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সত্য, বস্তুনিষ্ঠতা, সততা, গোপনীয়তা। বর্তমান সাংবাদিকতায় এইসব শুধু কথার কথা।
৭১ এর চেতনা বুকে নিয়ে সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গিকার নিয়ে, লাল সবুজের পতাকার ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলের স্বাধীন ভূ-খন্ডের প্রেমে আবদ্ধ হয়ে কোন সাংবাদিক যদি ঘটনার পেছনের ঘটনা, তথ্যের আড়ালে বয়ে যাওয়া তথ্য, তলানিতে পরে থাকা রহস্য উন্মোচনের অভিযানে নামে, শুরুতেই বাহ্ বাহ্ পেলেও পর মূহুর্তেই নামের আগে পরে বিভিন্ন অপ্রস্তুত উপাধি চলে আসে।
আনভীর-মুনিয়ার বার্নিং ইস্যু। জনযোগাযোগ মাধ্যম যখন সোচ্চার, তখন গণমাধ্যম নিরব কেন ? উত্তাল ফেসবুক। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক নেতাদের প্রশ্নের পর প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে, ঘৃনা নিক্ষেপ করছে, আক্ষেপ জানিয়ে অনেক গণমাধ্যমের নাম নিয়ে তা বয়কট করার ঘোষনাও দিচ্ছে।
গণমাধ্যমের একজন অতিক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমিও প্রশ্ন রাখতে চাই, আনভীর-মুনিয়ার বার্নিং ইস্যু তথ্য-উপাত্ত, টাকা বা ক্ষমতার নিচে চাপা পড়বে না বেরিয়ে আসবে ? তা কি কোন সাংবাদিকের লিখনির মধ্যদিয়ে নির্ভর করবে ? নাকি উপরে হাওয়া থেকে নির্দেশনা যা আসবে তা লেখার জন্য অতি আগ্রহে বসে আছে, দরকষাকষি টেবিলে। তাইতো নিরব কথিত গণমাধ্যম, কথিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, নিরব প্রশাসন, নিরব রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
মুনিয়ার ডাইরি থেকে পাওয়া মুনিয়ার অশ্রুঝরা লেখায় ফুটে আসে তার অভিমান, আনভীরকে হারানোর আশংকা, ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, “নষ্ট মেয়ে” অপবাদ, হৃদয়ের আকুতি বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা কিভাবে ফাঁসির দড়ির সাথে মিশে একাকার হয়ে গেল। এটাইতো প্রশ্ন ?
এখন প্রশ্ন কোন চক্র সুদূর কুমিল্লা থেকে কিশোরি মুনিয়াকে অভিযুক্ত আসামি আনভীরের মনোরঞ্জনের জন্য ঢাকা নিয়ে আসলো ? যে বয়সে মুনিয়া কুমিল্লা ময়নামতিতে বসে বাদাম খাওয়ার কথা ছিল, সে ঢাকায় ১ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাটে বিলাসবহুল জীবন জাপনে কিভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়লো ? এর পিছনের গল্প কি ?
তথ্য উপাত্তে জানতে পারলাম মুনিয়ার বাবা-মা কেউ নেই। বড় বোন তার অভিভাবক ছিল। অভিভাবকের দায়িত্ব কি এই ? মুনিয়াকে টাকা উপার্র্জনের হাতিয়ার হিসাবে তৈরি করাই কি এই অভিভাবকের কাজ ছিল ? এমনও তো হতে পারে এই বোনই মিনাক্ষীরানীর চরিত্রে ?
মুনিয়ার বাবা মুক্তিযোদ্ধা, তাহলে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নিরব কেন ? নারীবাদীরা নিরব কেন ? মানবধিকার সংস্থাগুলো নিরব কেন ?
একমাত্র সরব শুধু ফেসবুক ব্যবহারকারী উগ্র দর্শক, ভিতু শ্রোতা। উনারা তাহারা সেই দর্শক-যে দর্শক এর রুচিতে কালিয়া হয় বছরের সর্বাধিক ব্যবসা সফল ছবি। যাদের রুচির মানদন্ডে বেদের মেয়ে জোসনা হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যবসা সফল ছবি। ওরা এগারো জন, আবার তোরা মানুষ হ, সহ “মহান মুক্তিযুদ্ধ” এর উপর নির্মিত চলচিত্রগুলো হলবিমুখ হয়ে বিটিভির আশ্রয়ে আশ্রিত থাকলো সারা জীবন। সেই সব কথিত ফেসবুক ব্যবহারকারী সস্তা সেন্টিমেন্ট ইস্যুর উপর ভর করে কোন সাংবাদিক যদি “নিচ দিয়ে আকাশ দেখতে চায় তাহলে শুধুই দেখবে, চাঁদ যেন তার নিচের অংশের কাছে বেমানান।”
মুনিয়ার মৃত্যুর কার্যকরণ অদৃশ্য ইতিবৃত্তেই থেকে যাবে, যা প্রকাশ হবে তা শুধু হাওয়া থেকেই আসবে। পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন ছাড়া আর কোন দিক খুজে পাবে না কথিত সাংবাদিকগণ।
“মুনিয়া আমাদেরকে ক্ষমা করো”

