একাত্তর বাংলাঃ ‘গরীবের বাজার হলো হকার্সদের বাজার। সংখ্যায় বললে ঢাকায় ৪ লাখ হকার আছে। এই চার লাখ হকারের কাছ থেকে ৪ কোটিরও বেশি মানুষ কেনাকাটা করে। এই যে সেবাটি আমরা দিচ্ছি, এটাকে অক্ষুণ্ণ রাখা এবং আরও সমৃদ্ধ করার কথা হওয়া উচিত। আমরা সেজন্য বুক ফুলিয়ে দাবি করবো , আমাদেরকে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রকে ভূমিকা রাখতে হবে।’
সোমবার (৮ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া লাউঞ্জে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন আয়োজিত ‘নগর ব্যবস্থাপনায় হকারদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে এখন দুই অর্থনীতি, একই দেশের ভেতরে দুই দেশ হয়ে গেছে। একই সমাজের ভেতরে দুই সমাজ হয়ে গেছে। একটা হলো ১ শতাংশ লুটেরাদের সমাজ, আরেকটি হলো ৯৯ শতাংশ শোষিত-বঞ্চিতদের সমাজ। এই ৯৯ জন বসুন্ধরা মার্কেটে গিয়ে ৫০ টাকার জিনিস ৫০০ টাকায় কিনতে পারে না। তারা এয়ার কন্ডিশন মার্কেটে যেতে পারে না। আবার ওখানে দোকান খুলতে যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন সেটা এই ৯৯ শতাংশ মানুষের কাছে নেই। সুতরাং দেশ যেমন দুই ভাগ হয়ে গেছে, সমাজও দুই ভাগ হয়ে গেছে, বাজারও দুইভাগ হয়ে গেছে।’
এসময় বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ মূল প্রবন্ধ তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন ৫ বছর মেয়াদী হকার পুনর্বাসন মহাপরিকল্পনার কথা বলেছে। ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য স্বল্পমেয়াদে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দুই ধাপে অগ্রসর হতে হবে। তবে তারও আগে প্রকৃত হকারদের তালিকাভুক্ত করে তাদের পরিচয় পত্র প্রদান করতে হবে। এটাই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই কাজে সফলতার ওপর নির্ভর করবে গোটা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সফলতা। ক্রেতা সুরক্ষা আইন করে তালিকাভুক্ত হকারদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ নিয়ে সেটার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি যুক্ত করে স্থায়ীভাবে তাদের জন্য ব্যবস্থা করা যায়। ভারতে হকারদের জন্য করা ২০১৪ সালের আইন আমরা বিবেচনায় নিতে পারি। ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদে স্থান নির্দিষ্ট করে তাদের ধীরে ধীরে ফুটপাত থেকে স্থানান্তর করা যেতে পারে। কিন্তু এই পথে সিটি করপোরেশন কিংবা সরকার হাঁটতে যাচ্ছে না। হকারদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং সে আন্দোলনে সমাজের অন্যান্য অংশের সংহতি পারে প্রকৃত অর্থে সুন্দর বাসযোগ্য এবং শুধু ধনিকগোষ্ঠীর নয় সকলের জন্য ঢাকা ‘

