একাত্তর বাংলাঃ আদর্শিক দ্বন্দ্ব আর রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও শিক্ষার্থীদের অধিকারের প্রশ্নে একমত ছাত্র সংগঠনগুলো। স্বপ্ন এবং গণতন্ত্র বাস্তবায়নে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র’সংগঠনগুলোর প্রচারনা চলছে। ডাকসু নির্বাচন সামনে রেখে ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ গড়ার প্রতিশ্রুতি ছাত্রলীগের। সহাবস্থানের ভিত্তিতে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ বিরোধী সংগঠনগুলোর। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ডাকসু নেতৃত্ব।
মধুর ক্যান্টিনের সামনে গেলেই এখন চোখে পড়বে ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সম্বলিত বিশাল ব্যানার। মাদকমুক্ত ক্যাম্পাসের কথা বলছে সংগঠনটি। মুক্তিযুদ্ধ অধ্যয়ন ইন্সটিটিউট নির্মাণ, সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ন্ত্রণসহ নানা পরিকল্পনা রয়েছে ছাত্রলীগের।
কবি জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সৈকত আরিফ হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের কাছেই আমার প্রত্যাশা বেশি। আর ডাকসুতে নির্বাচিত হলে প্রশাসনিকভাবে তারা আরও বেশি সহায়তা পাবেন।
সরকারবিরোধী সংগঠনগুলোর মূল দাবি ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি। ছাত্রদল চায় সহাবস্থান, আর কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি নিরাপদ ক্যাম্পাস। সংগঠনগুলোর ইশতেহারেও স্থান পাবে সন্ত্রাস, দখলদারিত্বমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার মতো বিষয়গুলো।
ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি জি এম জিলানী শুভ বলেন, হলগুলোতে থাকা দখলদারিত্বের সংস্কৃতি সরিয়ে মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন নিশ্চিত করতে চাইবো।
তবে আধুনিক লাইব্রেরি নির্মাণ, ক্যাম্পাসে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, খাবারের মান বৃদ্ধি ও আবাসন সমস্যা সমাধানসহ বেশ কিছু বিষয়ে একমত সবগুলো সংগঠন।
ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে টানার চেষ্টা করছে সবগুলো সংগঠন। তারা প্রতিশ্রুতির অভাব রাখছেন না।
অপরদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্যার কোনো অন্ত নেই। ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে সকল সমস্যার সমাধান হবে এই প্রত্যাশা তাদের।
আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে যার যার ইশতেহার তুলে ধরবে ছাত্র সংগঠনগুলো।

