একাত্তর বাংলাঃ মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি রাখাইনে সহিংসতার ভয়াবহতা অনুধাবন করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।
রোববার রাখাইন পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাজ্যটির বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের রাখাইন পরিদর্শনের অনুমতি ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানান ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর পুড়িয়ে দেয়া বাড়ি-ঘর পরিদর্শনে রোববার রাখাইন সফর করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সেখানে ভ্রমণ করতে দেয়া না হলেও, এই প্রথম কোনো দেশের সর্বোচ্চ কূটনীতিক হিসেবে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলটি পরিদর্শন করলেন জনসন। সেখানে তিনি কয়েকজন রোহিঙ্গা মুসলমানের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তাদের চোখে মুখে ছিলো আতঙ্কে ছাপ। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও উঠে আসে একই কথা।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘গ্রামবাসী নির্ভয়ে বলতে পারছে না যে, কারা তাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে। তারা এখনো এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। রাখাইনে বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এখানকার সঠিক চিত্র ও পরিস্থিতির ভয়বহতা অং সান সু চি সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন কি-না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
বহির্বিশ্বে মিয়ানমারের সুনাম ধরে রাখতে তাদের উচিত নিরাপদে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করা।’
এদিকে, গতমাসে রাখাইনে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার দায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনী স্বীকার করার দীর্ঘদিন পর, ওই ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১০ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির সরকার।
এছাড়াও, আরও অন্তত ৬ স্থানীয় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধেও একইধরনের আইনানুগহ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়। সম্প্রতি ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে রয়টার্সের সংবাদ প্রকাশের আগেই, তদন্তের ভিত্তিতে ওই ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয় বলেও দাবি করে নাইপিদো।
এর মধ্যেই মিয়ানমারে গ্রেফতার রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে পাথেইন শহরে বিক্ষোভ করে দেশটির সাংবাদিকরা। তারা অবিলম্বে ওই দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবি জানান।

