সুমন ভৌমিকঃ ৪মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় চর গোবদিয়া উত্তরপাড়া’র সরকার বাড়ির প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ভাষণের উপর আলোচনা সভা ও নাট্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভা ও নাট্যানুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সদস্য সচিব, সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ময়মনসিংহ মহানগর ইউনিট কমান্ড এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের মধ্যমনি, সময়ের কাঙ্খিত সন্তান, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক জননেতা মোহিত উর রহমান শান্ত।

বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ভাষণের উপর আলোচনা সভা ও নাট্যানুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, ইতিহাসে তা লিপিবদ্ধ আছে। বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ভাষণের শেষ ২টি লাইন-বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম-এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। সেই থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে। ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ। সেই ভাষণের পথ ধরে আজকে স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আমরা বক্তৃতা দিতে পারছি।
তিনি বলেন, যাত্রা কিংবা নাটক প্রায় বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘদিন পরে এই গ্রামাঞ্চলের মানুষের মাঝে যিনি প্রাণ ফিরিয়ে এনেছেন, আজকে আমাদের নাটক দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন, আজকের এই অনুষ্ঠানের আয়োজক সাবেক চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিন সরকারের সহযোগী হাসান সরকার।

তিনি আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা এই গ্রামের মানুষদের জন্য সব কিছুর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। হাজার-হাজার, লক্ষ-লক্ষ গৃহহীন মানুষের বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। কৃষিখাতে সার ও ডিজেলে কোটি-কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে কৃষকরা যেন ধান ফলাতে পারে সে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গ এক সময় মঙ্গা অঞ্চল নামে পরিচিত ছিল, সেই উত্তরবঙ্গ আজকে সুজলা-সুফলা।
তিনি এসময় বলেন, অধ্যক্ষ মতিউর রহমান কুপি বাতি’র আলোতে পড়ে কিংবা আকুয়া গোরস্তানের পাশে যে ল্যাম্পপোস্টটি ছিল সেই ল্যাম্পপোস্টের নীচে পড়ে মাস্টার্স পাশ করে তারপর তিনি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান হয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিদ্যুতের এমন ব্যবস্থা করেছেন, আমার পাশে হাজার-হাজার ঝাড়বাতি জ্বলছে। তিনি বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা করে দিয়েছেন এবং সেখান থেকে আমরা শিক্ষিত হচ্ছি। তিনি সকল শ্রেণীর মানুষের মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে চলছেন।

তিনি এসময় আরো বলেন, গত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে বাংলার কৃষকভাইদের সেচ-সার চাইতে গিয়ে গুলিতে নিহত হতে হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সাল বিএনপি’র সকল অত্যাচার সহ্য করেছি, জেল-জুলুম খেটেছি, ছাত্রদল-যুবদলের ছেলেরা আমাদের বুকে গুলি চালিয়েছে, অন্ধকার জেলখানার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছি। আমাদের পরিবারের অনেককে সহ নেতাকর্মীদের জেল খাটিয়েছে বিগত বিএনপি-জামাত সরকার। কিন্তু যেদিন ৭ বছরের প্রতিশোধ নেওয়ার সময় এসেছিল, সেদিন আমার পিতার কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে একটি ফোন এসেছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা সেদিন আমার পিতাকে বলেছিলেন, আপনি বিজয়ী হয়েছেন ময়মনসিংহ সদর থেকে। যদি ময়মনসিংহ সদরের ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিগত ৭ বছরের প্রতিশোধ নিতে কোন মানুষের ঘরে হামলা চালায়, কাউকে অত্যাচার করে তার হিসাব আপনাকেই দিতে হবে। নেত্রী বলেন, আপনি বিজয় মিছিল করতে পারবেন না, আপনার নেতাকমীরা বিজয় মিছিল থেকে যারা অত্যাচার করেছে তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিতে পারে। সেই ৭ বছরের প্রতিশোধ নিতে গেলে রক্তাক্ত হত বাংলাদেশ। সেদিন যদি প্রতিশোধ নেয়া হতো তাহলে লক্ষাধিক বিএনপির নেতাকে রক্তাক্ত হতে হত। কিন্তু সেদিন বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এমন মমতাময়ী মানুষ যেদিন প্রধানমন্ত্রী হন, সেদিনই একটি সুন্দর স্বনির্ভর আত্মনির্ভর বাংলাদেশের সূচনা হয়েছিল। ১২ বছরে বাংলাদেশকে অনুন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। আপনারা যদি উনার উপর আস্থা রাখেন তাহলে আগামী ২০৪০ সালের আগেই বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, বক্তব্য শেষ করার আগে একটি কথা বলতে চাই। আমিনুল হক শামীম একজন ব্যবসায়ী মানুষ, সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে আমি তার চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। এখানে আমার অনেক নেতাকর্মী আছেন। আমার সর্বকনিষ্ঠ কর্মী’র আওয়ামী রাজনীতির বয়স ১০/১২ বছরের নীচে না। আমিনুল হক শামীম আপনাকে আওয়ামী লীগ হতে হলে আরও কয়েকটি বছর আওয়ামী লীগ করতে হবে। বিগত আমলে যখন আপনি বিএনপি করেছেন, সাবেক ছাত্রদলের নেতা ছিলেন-এই গন্ধ মুছতে মুছতে আপনার অনেক দিন চলে যাবে। আমরা যদি রাজনীতি ছেড়েও দেই, যতদিন আমরা বাঁচবো ততদিন আপনি জয় বাংলা বলতে বলতে আমাদের সমকক্ষ হতে পারবেন না। আপনি যে কথাগুলো তুলেছেন আমাকে নিয়ে, আপনি যে কথাগুলোর অবতারনা করেছেন। যে জায়গায় বলেছেন, যাদেরকে নিয়ে বলেছেন, তাদের আঙিনায় এই চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে সাথে নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি একটি জনসভা করবো। সেই জনসভায় আমি আপনার সমন্ধে ৩টি কথা বলবো। এরপরের দিন যদি আপনি একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে ময়মনসিংহে মুখ দেখাতে পারেন আমি মোহিত উর রহমান শান্ত ময়মনসিংহ ছেড়ে যাব।

বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ভাষণের উপর আলোচনা সভা ও নাট্যানুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক গোলাম ফেরদৌস জিলু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু, সদস্য প্রফেসর মোঃ সালাউদ্দিন সোহাগ, চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি তোফজ্জল হোসেন তোতা, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আখেরুল ইমাম সোহাগ, কোতোয়ালী থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ শাহজাহান সরকার, সাবেক ধর্মমন্ত্রীর এপিএস ও সিরতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, ৩৩নং ওয়ার্ড, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মোঃ শাহজাহান মনির, কোতোয়ালী থানা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ হাসান সরকার, ৩২নং ওয়ার্ড মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সাহাব উদ্দিন, ৩১নং ওয়ার্ড মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম, ময়মনসিংহ মহানগর শ্রমিক লীগের আহবায়ক আবুল খায়ের, ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ রাসেল পাঠান, ময়মনসিংহ জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হাসান ইমরান, দেবাশীষ পান্না, ময়মনসিংহ মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মোঃ মোফখখার হোসেন খোকন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ নাজমুল হক সুজন, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সরকার মোঃ সব্যসাচীসহ প্রমুখ।
বক্তব্য শেষে সরকার বাড়ির প্রাঙ্গনে বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ভাষণের উপর নাট্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নাট্যানুষ্ঠানটি আয়োজন করেন হাসান সরকার।

