অর্থকড়ি ডেস্ক
জ্বালানি তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাবক মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। চলমান ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কারণে দেশগুলো তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে জ্বালানি তেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন তারা। খবর ব্লুমবার্গ ও বিজনেস ইনসাইডার।
ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাজার বিশ্লেষক সংস্থা র্যাপিডান এনার্জির প্রতিষ্ঠাতা বব ম্যাকনালি বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে তেলের বাজার খুব বেশি উদ্বিগ্ন নয়। তবে এই অস্থিরতার ফলে জ্বালানি তেলের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। তবে ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধ জ্বালানি তেল সরবরাহে প্রভাবক বড় দেশগুলোকে আকর্ষণ করতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। এ সময় ম্যাকনালি জোর দিয়ে বলেন, ভূরাজনৈতিক কোনো ঘটনার কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি এখন প্রায় ৩০ শতাংশ।
গত মাসে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালান। এর কারণ হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের হামলাকেই দায়ী করা হয়। এর ফলে তেলের দাম অস্থায়ীভাবে বেড়ে যায়।
যদিও এই ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি নিরাপত্তা টাস্কফোর্স এই অঞ্চলে আসছে। তবে লোহিত সাগর ইরানের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টাকে প্রতিহত করছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ভারত মহাসাগরে একটি ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার জন্য অভিযোগ করার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার ব্যাপারে র্যাপিডান এনার্জির প্রতিষ্ঠাতা বব ম্যাকনালি বলেন, ‘এটি শিথিল হচ্ছে না। আমি মনে করি, এই ঘটনায় জ্বালানি তেলের বাজারে খুব বেশি উদ্বেগের কিছু নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তেলের দামে ব্যারেলপ্রতি কমপক্ষে ১২ ডলার ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
বর্তমানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রায় ৭৮ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। অর্থাৎ জ্বালানির তেলের দাম বেড়ে ৯০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।’
ম্যাকনালি আরও বলেছেন, ইরান উত্তেজনা বাড়িয়ে জাহাজ চলাচলের পথে আক্রমণ চালালে এটি লোহিত সাগরের অস্থিরতার চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে যদি ইরান পারসিয়ান উপসাগরকে বাকি বিশ্বের সঙ্গে সংযোগকারী একমাত্র জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে, তবে বিশ্বের তেল সরবরাহে বড় ব্যাঘাত ঘটবে।
তিনি বলেন, লোহিত সাগর একটি সংক্ষিপ্ত রুট (শর্টকাট)। (এটি বন্ধ হয়ে গেলে) অন্য রুট ঘুরে যেতে জ্বালানি তেল সরবরাহে আরও দুই সপ্তাহ বেশি সময় লাগবে। এটি কোনো মজার ব্যাপার নয়, তবে এড়ানো যায়। তিনি আরও বলেন, হরমুজ হচ্ছে একটি বটলনেক; এটি হৃদরোগের মতো। আমি মনে করি, ইরান যতই উত্তেজনা বাড়াবে, ততই এই সমস্যা বাড়বে।
এদিকে ম্যাকনালি ইরান ছাড়াও গাজায় কার্যক্রম কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লেবানন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি নিয়েও উদ্বিগ্ন। ২০২৩ সালের শেষদিকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ-চাহিদায় অসামঞ্জস্য এবং ভূরাজনৈতিক হুমকির কারণে তেল বাজারে ব্যাপক মন্দা দেখা দিয়েছে।

