নিউজ ডেস্ক
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। গত ৩১ জানুয়ারি সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইসিতে চিঠি দিয়ে জোটের অবস্থান স্পষ্ট করেছে আওয়ামী লীগ।
এরই মধ্যে সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখা থেকে শপথ নেওয়া ২৯৯ জনের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। শপথ নেওয়া প্রার্থীরাই সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচনে ভোটার। বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসনসংখ্যা ৫০।
ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান জানিয়েছেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের তফসিলের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কমিশন বৈঠকের পর যেকোনো দিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। ভোট গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দ্বাদশ সংসদের নির্বাচিত স্বতন্ত্র এমপিরা আওয়ামী জোটকে সমর্থন দেওয়ায় তফসিলের পর প্রার্থী মনোনয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও এই নির্বাচনে এবার ব্যালট ছাপানো ও ভোট অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হবে না। কারণ দল এবং জোট কারও পক্ষেই নির্ধারিতসংখ্যক আসনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে তফসিল ঘোষণার পর নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য মনোনীত প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারসহ বাকি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন। তারপর যাচাই-বাছাইয়ে টিকে যাওয়া আওয়ামী লীগের ৩৮ জন, স্বতন্ত্রদের (এরাও আওয়ামী লীগকে দায়িত্ব দিয়েছেন) প্রাপ্য ১০ জন ও জাতীয় পার্টির ২ জন চূড়ান্ত প্রার্থীকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে ইসি।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের পর ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ হওয়ায় আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

