বরগুনায় সদর কলেজ গেটের সামনে প্রকাশ্যে দিবালোকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলা ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী এ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে সকালে মিন্নির জামিন আবেদন করে আদালতের কার্যতালিকায় তোলা হয় মামলাটি। পরে বেলা ১১টার দিকে মিন্নির জামিনের জন্য শুনানি শুরু হয়।
মিন্নির জামিনের জন্য আদালতে শুনানিতে তার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম, অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের, অ্যাডভোকেট দীপক চন্দ্র হালদার, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল নোমান, অ্যাডভোকেট সাহিদা বেগম, অ্যাডভোকেট আবদুর রশীদ ও অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান।
আজ রবিবার (২১ জুলাই) মিন্নির পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মিন্নিকে আদালতে হাজির ও স্বীকারোক্তি নেয়ার সময় তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর কোন আইনজীবীর সহায়তা পাননি। আইনজীবী না পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে চলে আসলে মিন্নিকে আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য এগিয়ে আসেন শতাধিক আইনজীবী।
রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে দায়ের করা হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়। পরবর্তীতে মামলার সাক্ষী মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে গেল ১৬ জুলাই সকাল পৌনে দশটায় বরগুনা পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে। ওইদিনই মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী না পাওয়ায় হতাশ হয় তার বাবা-মা। পরে রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরের দিন বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে মিন্নিকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়ার জন্য আবেদন করা হয়। বিচারক তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল। রিমান্ডে নেয়ার ৪৮ ঘণ্টার মাথায় ১৯ জুলাই পুনরায় আদালতে হাজির করে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়।
শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যার পরে মিন্নিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়। মিন্নিকে আদালতে হাজির ও স্বীকারোক্তি নেয়ার সময় তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর কোন আইনজীবীর সহায়তা পাননি। আইনজীবী না পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে চলে আসলে অনেকেই মিন্নিকে আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য এগিয়ে আসেন।
এদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, তার মেয়ে মিন্নির পক্ষে আইনি লড়াই করার জন্য বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী আসলামকে রাজী করিয়েছেন। কিন্তু তিনি আসেননি।
মিন্নির আইনজীবি না পাওয়ার খবর গণমাধ্যমে আসলে ঢাকা থেকে আইনি সহায়তাসহ মামলার খোঁজ-খবর নিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল শনিবার বিকেলে বরগুনা এসেছেন। শনিবার ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিয়ে রোববার জামিনের আবেদন করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছেন।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী আদালতে আসলে জামিনের আবেদন করা হবে।
এদিকে প্রতিনিধি দলের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর আবু আহম্মেদ ফয়জুল কবির জানিয়েছেন, তারা মিন্নির বাবা-মাসহ অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছেন। আরও কয়েকদিন তারা বরগুনায় অবস্থান করবেন।
ঢাকা থেকে আসা প্রতিনিধি দলের তদন্ত কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তারা রিফাত হত্যার কারণসহ সত্যিকার তথ্য বের করবেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী আবদুর রশিদ ও মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, রবিবার তারা আদালতে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী আসলামের সঙ্গে থাকবেন। রোববার সকালে আরও কয়েকজন আইনজীবী আসার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। যাদের মধ্যে ১৪ জন হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

