একাত্তর বাংলাঃ রাজধানীর উত্তরায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এক কিশোরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আরেক কিশোরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ধরনের কিশোর অপরাধ মোকাবিলায় অভিভাবকের সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছে পুলিশ। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সমাজে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ায় এক শ্রেণির কিশোর জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে।
গেলো ২০ মার্চ রাজধানীর উত্তরায় মোটরবাইক চালানো শেখানোর কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নাবিল নামে এক কিশোরকে হত্যার চেষ্টা করে জীবন নামে আরেক কিশোর।
এমনকি হত্যাচেষ্টার আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে হুমকিও দেয় জীবন। তবে কী কারণে এই হত্যাচেষ্টা, বলতে পারছে না আহত নাবিল কিংবা তার পরিবার।
তবে নাবিলের স্বজনরা জানান, জীবন একটি স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হলেও নিয়মিত স্কুলে যায় না। এমনকি মাদকাসক্তির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ওইদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে নাবিল বলে, ‘এমনি কথাবার্তা চলছিলো, আমি জিজ্ঞেস করি, হোন্ডা কখন আসবে। ও বলছিলো যে হোন্ডা আসছে। তখন ও বলে, আমি বাসা থেকে টেপটা নিয়ে আসি। ওর বাসা ছয়তলায়। একটা ইউনিটেই। তখনই মনে হয়, টেপ আনার কথা বলে ছুরি নিয়ে এসেছিলো।’
নাবিলের বাবা মকসুদ আলী খোকন বলেন, ‘আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আব্বু তোমাকে আঘাত করার কারণ কী? তোমার সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিলো? সে বলে, আব্বা, আমি তো এখনও বুঝতে পারছি না। সে আমাকে কেন আঘাত করবে?’
এদিকে এই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখনো অভিযুক্ত জীবনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে দাবি করে পুলিশ বলছে, এ ধরণের অপরাধ নির্মূলে পরিবারের পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠদের।
গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মাদক বিরোধী কর্মসূচি থাকে আমাদের। এরকম বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি আছে, যাতে মানুষ সচেতন হয়। সেগুলো আমরা পালন করে থাকি। জনগণের সম্পৃক্ততা বা সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই আমরা কখনোই নিরাপদ না। অপরাধমুক্ত যে সমাজ আমরা চাই, সেটা আমরা কখনোই দিতে পারবো না। অবশ্যই নাগরিকবৃন্দের এক্ষেত্রে সহযোগিতা করা দরকার।’
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কৈশোর কিংবা তারুণ্যের ধর্মই হচ্ছে উন্মত্ততা। এক সময় তারুণ্যের এই আবেগ ব্যবহৃত হতো গঠনমূলক কাজে। কিন্তু এখন সমাজে সুকুমার বৃত্তির চর্চা কমে যাওয়ায় কিশোর তরুণরা ঝুঁকছে অপরাধের দিকে।
অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ‘কিশোর কিশোরীদের যে টগবগে তারুণ্য, উদ্দীপনা, শক্তি- সেটাকে সে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের কোনো পথ পাচ্ছে না। কারণ তার খেরঅর মাঠ নেই। গ্রন্থাগার নেই। তার শক্তিটা সে ইতিবাচকভাবে, গঠনমূলকভাবে কাজে লাগাবে- সেই সংগঠন নেই।’
গেলো বছরের জানুয়ারিতে এই উত্তরাতেই কথিত গ্যাং সংস্কৃতির শিকার হয়ে খুন হয় আদনান নামে এক কিশোর।সূত্র:সময় টিভি।

