রুমি ভৌমিকঃ বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর শাখা কেন্দ্রীয় কমিটির ডাকে সারাদেশের ন্যায় আজ শনিবার ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে গণঅবস্থানে অংশ নেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণঅবস্থানে অংশগ্রহণ করেন ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সহ সহযোগী সংগঠন এবং ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ সহ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দরা গণঅবস্থানকালে বলেন, একদিকে ভিন্ন ধর্মের বিরুদ্ধে অব্যাহত অপপ্রচার, অন্যদিকে ধর্ম অবমাননার কথিতদায়ে হিন্দু ছাত্রদের ছাত্রত্ব বাতিল এ কিসের আলামত? এছাড়া সামাজিক গণমাধ্যমে ভিন্ন ধর্মের বিরুদ্ধে অব্যাহত অবমাননাকর অপপ্রচার এবং অন্যদিকে ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ভুয়া পোস্টিং এর মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার জিগির তুলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও কুমিল্লার মুরাদনগরের সংখ্যালঘু এলাকায় আক্রমণ, অগ্নি সংযোগ, নারী নির্যাতন ও ভিকটিমদের গ্রেফতারের পাশাপাশি গত ২৬ অক্টোবরের মধ্যে দেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ছয়জন ছাত্রের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলসহ তাদের উপর কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির ঘটনা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তীকে হত্যার হুমকির ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে ধর্ম অবমাননার কথিত দায়ে গত ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে আবু ইউনুস মোঃ শহিদুন্নবী নামের এক ধর্মপ্রাণ বয়স্ক ব্যক্তিকে ধর্ম অবমাননার কল্পিত দায়ে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দরা মনে করেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার কু-অভিপ্রায়ে সাম্প্রদায়িক মহলবিশেষের এক পরিকল্পিত ঘৃণ্য অভিসন্ধি। অনতিবিলম্বে সরকার এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। নেতৃবৃন্দরা জানান, ছয়জন ছাত্রকে এরই মধ্যে ধর্ম অবমাননার কথিতদায়ে ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল করে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে তারা হলেন-নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএসডিএম ও ফার্মেসী বিভাগের দুজন প্রন্তিক মজুমদার ও দিপ্ত পাল, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের ছাত্র মিথুন মন্ডল, ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী তিথি সরকার, পার্বতীপুর আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী দিপ্তি রবিদাশ, ফেনীর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মিথুন দে। এদের মধ্যে মিথুন মন্ডলকে সাতক্ষীরার দেবহাটার গ্রামের বাড়ি থেকে, দিপ্তি রানী রবিদাশকে তার পার্বতীপুরের গ্রামের বাড়ী থেকে ও মিথুন দে-কে ফেনী থেকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নেতৃবৃন্দরা সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন এবং তিথি সরকারকে উদ্ধারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।
গণঅবস্থানের পর ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অনুযায়ী ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি নগরের বিভিন্ন স্থান অতিক্রম করে নগরের ১নং ফাঁড়ি ঘুরে আঠারবাড়ি শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহন করেন ময়মনসিংহ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডঃ বিকাশ রায়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডঃ সুজিত বর্মন, ময়মনসিংহ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডঃ প্রশান্ত দাস চন্দন, সাধারণ সম্পাদক পবিত্র রঞ্জন রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন ভৌমিক এবং পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ সহ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলার সভাপতি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় দূর্গাবাড়ী মন্দিরের পাঠাগারে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দরা ধর্ম অবমাননার জিগির তুলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও কুমিল্লার মুরাদনগরের সংখ্যালঘু এলাকায় আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন, ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রত্ব বাতিলের অপপ্রয়াস, অধ্যাপক কুশল চক্রবর্তীকে হত্যার হুমকি, ধর্মপ্রাণ মহিদুন্নবীকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং গ্রেফতারকৃত ছাত্র-ছাত্রীদের আশুমুক্তি, শো-কজ নোটিশ প্রত্যাহার, সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের দাবীতে ৭ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কর্মসূচী অনুযায়ী গণঅবস্থান ও অবস্থানশেষে বিক্ষোভ মিছিল সফল করার লক্ষে মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দদের সাথে এক আলোচনায় মিলিত হয়েছিলেন।

