স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১শ ৮৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে শিক্ষকগণ হাজির থাকেন না বলে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকগন জানিয়েছেন।
অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা সকাল ৯ টায় বিদ্যালয়ে হাজির হলেও শিক্ষক-শিক্ষিকাগন বিদ্যালয়ে আসেন সকাল ১০টায়। এজন্যই অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান খুব নগন্য।
সূত্র জানিয়েছে, ময়মনসিংহ শহরে থেকে অনেক শিক্ষক সদর উপজেলার মফস্বল ও পরিবহন যোগাযোগ বিছিন্ন এলাকার বিদ্যালয়ে চাকুরি করেন। নারী কিংবা পুরুষ শিক্ষকগন কোন দিনই সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে যেতে পারেন না। ফলে এ সকল বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষায় তেমন অগ্রসর নয়। ফলে অনেক শিশুরা উৎসায় হারিয়ে আর বিদ্যালয়ে যায় না।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধিকংশ বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক বেশী। যে সকল বিদ্যালয়ে পুরুষ শিক্ষক কম সেখানে নারী শিক্ষকদের বিলম্বে উপস্থিতি আর খুশগল্পই বেশী চলে।
ঐ সকল এলাকায় শত শত শিশু কিশোর লেখা পড়া না করে শিশু শ্রম বা পথ শিশু হয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। শিক্ষার মান খারাপ হওয়ায় অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নামে জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করেছেন। শিক্ষকগন স্থানীয় ভাবে অভিভাবকদের উৎসাহিত না করায় সদর উপজেলায় হাজার হাজার শিশু কিশোর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দেখা যায়, বিদ্যালয় পরিদর্শকগণ নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন না করায় এই নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সুত্র জানিয়েছে, খাগডহর সরকারি প্রামিক বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে। এখানে শিক্ষক মাত্র ১ জন। তাদের বিরুদ্ধে অভিভাবকগন জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন। জেলাশিঅ/ময়মন/১২০৩ তাং০৮/০৪/২০১৮ ইং দু’জন নারী তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়।
অভিযুক্ত নারী আর তদন্ত কর্মকর্তা নারী। ফলে অদ্যবদি তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মূখ দেখেনি। অভিযোগ রয়েছে উক্ত বিদ্যালয়ের ৯ নারী শিক্ষিকা সব চেয়ে বেশী খাটান পুরুষ শিক্ষককে। কারনে অকারনে নারী শিক্ষকরা দলবদ্ধ হয়ে যান। তাদের দাখিলকৃত একটি মিথ্যা অভিযোগে সেই পুরুষ শিক্ষকের স্বাক্ষর নিতে পারেননি।
অভিযোগটি হচ্ছে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্বারক নং ৩৩৭১ তাং১৭/০৫/১৮ ইং। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হাসিনা নাকি খুব প্রভাবশালী। শিক্ষিকা হাসিনার তার ভাসুর সহকারি শিক্ষক রেজাউল করিম হালুয়াঘাটে কর্মরত সহকারী শিক্ষক কে বদলী করিয়ে ময়মনসিংহে আনতে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছেন। ঐ শিক্ষকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা স্বীকার করেন। এমন নাজুক আকার ধারন করেছে ময়মনসিংহ সদরের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে।

