বদরুল আমীনঃ গত ৩১/০৩/১৯ তারিখ সকাল ০৮.০০ ঘটিকার সময় মুক্তাগাছা থানাধীন বানিয়াকাজী গ্রামস্থ তাইজুল মাষ্টারের ফিশারীর পাড়ে অজ্ঞাতনামা গলাকাটা মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থলের আশপাশে লাশের বিছিন্ন মাথা পাওয়া যায়নি। তৎক্ষনিক মৃত দেহের পরিচয় সনাক্ত হয়নি। পরবর্তীতে ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজন খবর পেয়ে থানায় গিয়ে মৃত দেহ দেখে পরিচয় নির্ণয় করে।
উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের ভাই মোঃ ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে, মুক্তাগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড বিধায় তদন্তের দায়িত্ব শুরু থেকেই জেলা গোয়েন্দা শাখার উপর ন্যাস্ত করা হয়।
ভিকটিম কোন মোবাইল ব্যবহার না করায়, ডিবি’র টিম বিভিন্ন ছদ্ম বেশে মামলাটি তদন্ত করে দ্রুত সময়ে রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় এবং ঘটনায় জড়িত আসামী বাবলু (৩২)’কে ইং ০৬/০৪/১৯ তারিখ ধৃত করতে সক্ষম হয়। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে লোমহর্ষক হত্যার ঘটনা স্বীকার করে এবং তার স্বীকার মতে ভিকটিমের বিচ্ছিন্ন মাথা ইং ০৬/০৪/১৯ তারিখ রাত ০৮.০০ ঘটিকায় পূর্বের ঘটনাস্থল হতে ৩ কিঃ মিঃ দূরে বানিয়াকাজী গ্রামের একটি কচুরিপানাযুক্ত ডোবা হতে ডিবি পুলিশ উদ্ধার করে।
৭০০/-টাকাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ড হয়েছে মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। আসামী ভিকটিমের নিকট ৭০০/- পাইত। টাকা না দেওয়াতে ঘটনার দিন রাতে নির্জন স্থানে নিয়ে তর্ক বিতর্করে এক পর্যায়ে ঘুষি দেয়। ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।
পরবর্তীতে আসামী বাবলু (৩২) ভিকটিমকে কাঁধে করে নিয়ে ঘটনাস্থল ফিশারীর পাড়ে ফেলে আসে এবং পুনরায় বাড়ী হতে দা নিয়ে তার গলা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ৩ কিঃ মিঃ দূরে অন্য একটি ডোবায় লুকিয়ে রাখে।
আটককৃত মোঃ বাবলু মিয়া মুক্তাগাছা থানার বানিয়াকাজী গ্রামস্থ মোঃ হাতেম আলীর সন্তান।
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার প্রেস বিজ্হপ্তিতে জানানো হয়, গত ৩০/০৩/১৯ ইং তারিখ রাত ০৭.৩০ ঘটিকা হইতে ইং ৩১/০৩/১৯ তারিখ সকাল ১০.০০ ঘটিকার মধ্যে উক্ত হত্যাকান্ডটি ঘটে বলে জানা যায়।
উক্ত ঘটনার ঘটনাস্থল ‘মুক্তাগাছা থানাধীন বানিয়াকাজী গ্রামস্থ জনৈক তাইজুল মাষ্টারের ফিশারীর পাড়’ বলে নিশ্চিত করেন ডিবি কতৃপক্ষ।

