একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ ময়মনসিংহ নগরীতে রমেশ সেন রোডে (নিষিদ্ধ পল্লী) লাইসেন্সধারী একটি দেশীয় বাংলা মদের দোকান আছে। সূত্র জানায়, ম্যানেজার পিংকু নিজে, কাইয়ুম ও তার লোকজন প্রতিদিন প্রায় ৩শত লিটার দেশীয় বাংলা মদ অবৈধ ভাবে বিক্রি করে পাচার করছে।
প্রকাশ, ইতিপূর্বে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের চাপে প্রতিদিন দেশীয় বাংলা মদ অবৈধ ভাবে হকারদের কাছে পাচার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এখন আবারও সেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে। ১নং ফাঁড়ি পুলিশের তৎপরতায় যত সামান্য বাংলা মদসহ কিছু ব্যক্তি গ্রেফতার হলেও তা ছিল অপ্রতুল। যেন সাগর থেকে এক বাল্টি পানি উদ্ধার! যদিও বা ১০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালী মডেল থানার ১নং ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ ভাবে পাচার হওয়া দেশীয় বাংলা মদ ধরার জন্য রাত দেড়টায় পতিতা পল্লীর ১নং গেইটের বিপরীতে প্রশস্ত রাস্তায় ফাঁদ পেতে ছিল কিন্তু তা সফল হয়নি। সূত্র জানায়, ২নং গেইট দিয়ে অবৈধ বাংলা মদ পাচার হয়েছে নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্রির জন্য। জানা যায়, দশমী উপলক্ষে এবার বাংলা মদ পানি মিশিয়ে অবৈধ ভাবে প্রচুর পরিমানে পাচার হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা পারমিটধারীদের নামে রির্টান খাতায় মদ বিক্রি দেখিয়ে কালো বাজারে হকারদের কাছে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা। সূত্র জানায়, পারমিটধারী ব্যক্তিরা মাসে ৯ লিটার মদ পাওয়ার অনুমতি আছে কিন্তু দোকান মালিকের যোগসাজশে কর্মচারীরা পারমিটধারী ব্যক্তিদের কাছে প্রতিমাসে গড়ে প্রায় ১০০ লিটার মদ অবৈধ ভাবে বিক্রি করে থাকে।
প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীতে একমাত্র লাইসেন্সধারী দেশীয় বাংলা মদের দোকান রয়েছে (নিষিদ্ধ পল্লী) রমেশ সেন রোডে। এখানে প্রায় ৩ শত যৌনকর্মী। তাদের আছে ৩টি সংগঠন। অপর দিকে এখানে রয়েছে অবৈধ ভাবে দেশীয় বাংলা মদ বিক্রী’র জন্য অনেক হকার। এই দেশীয় বাংলা মদ অবৈধ ভাবে বিক্রি’র হোতা’রা হলেন, পতিতা পল্লীর ভিতরের ঠাকুর বাড়ি’র শিল্পী, স্বপ্না ও তপন, মুকবুল বাড়ি’র সখিনা ও সুমা, ১নং বাড়ি’র শাহিদা ও শামছুলন্নাহার, ২ নং বাড়ি’র জাহাঙ্গীর, ৪ নং বাড়ি’র সালমা, মনু ও আমিনা, ৫ নং বাড়ি’র আঁখি, টুনি, পারভিন ও দিলীপ, হিরো মিয়ার জামগাছওলাবাড়ি’র কাজলী নিষিদ্ধ পল্লীর ভিতরে ও বাহিরের বিভিন্ন লোকজনদের কাছে অবৈধ ভাবে উচ্চ মূল্যে বাংলা মদ বিক্রি করে পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই অবৈধ মদ ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার মালিক। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোন খবর ছাপা হয়, তাহলে তারা স্থানীয় তাদের মদদপুষ্ট সংবাদ মাধ্যমকে ম্যানেজ করে প্রতিবাদ ছাপায় এবং প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা অভিযোগ করে, এমন নজিরও রয়েছে। ফলে অনেকেই সংবাদ লেখা থেকে বিরত থাকেন।
সূত্র জানায়, তারা প্রত্যেকেই প্রতিদিন ৬ লিটার বা কেউ কেউ ১২ লিটার দেশীয় বাংলা মদ কাউন্টার থেকে অবৈধ ভাবে সংগ্রহ করে বিক্রি করে। ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ ও জেলা গোয়েন্দা সংস্থা বড় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রি’র হোতা অনেকেই মদসহ আটক করে মামলা দিয়েছে।
র্যাব ও ডিবি’র অভিযানের ফলে কিছুদিন লাইসেন্সধারী একমাত্র দেশীয় বাংলা মদের দোকান থেকে অবৈধ ভাবে মদ হকারদের দেয়া বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু এখন ডিলার কর্তৃক কালো বাজারে হকারদের কাছে দেশীয় বাংলা মদ বিক্রি ফের চালু হয়েছে। সূত্র জানায়, টাকা দিয়েই বিভিন্ন অভিযান ম্যানেজ করা হয়!
সম্প্রতি পুলিশের বড় কোন অভিযান না হওয়ায় সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

