একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ অবশেষে ময়মনসিংহ সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস চাঁদাবাজী মুক্ত হতে যাচ্ছে। নির্যাতিত শত শত দলিল লিখক ইতিপূর্বে নির্যাতিত হয়ে জায়নামাজে বসে সন্ত্রাসীদের বিচার প্রার্থী হয়ে আসছেন। ময়মনসিংহের দায়িত্বশীল সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন দক্ষ মেধাবী পুলিশ পরিদর্শক ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দকে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস চাঁদাবাজী মুক্ত করতে এ দায়িত্ব দিয়েছেন। গত ২৭ মে রবিবার অভিযান চালিয়ে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ৩ জন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছে জিম্মী থাকা কয়েকজন দলিল লেখককে মুক্ত করে ডিবি পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, টানা কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসীরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক ও সাব রেজিস্টারী অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারিদের জিম্মি করে ভূমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে দলিল প্রতি মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের করে আসছে। এ চাঁদাবাজীর ঘটনা গত কয়েকদিন থমকে থাকার পর আবারো শুরু হলে ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে পুলিশ গত রবিবার সদর সাব রেজিস্ট্রার এর সংবাদের প্রেক্ষিতে এ অভিযান চালায়। অভিযানে দলিল লেখক কর্মচারিদের মুক্ত করে তিন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত চাঁদাবাজরা হলো, শহরের মাসকান্দা গনসার মোড়ের মাকতুম হোসাইন, আমলাপাড়ার মহিউল ইসলাম ও ফুলপুরের রাকিবুল আলম।
ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মাচারী ও দলিল লেখকদের জিম্মি করে একটি চিহ্নিত চক্র সদর সাব রেজিষ্ট্রারী অফিসের ভিতরে নিজেদের অফিস খুলে দলিল প্রতি বেআইনী মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অনেক সময় একাধিক দলিল লেখক শারীরিক নির্যাতনের শিকার পর্যন্ত হয়েছেন। অনেকেই মান সম্মান বজায় রাখতে সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সদস্য রেজাউল করিম রাসেল হত্যা মামলাকে কেন্দ্রে করে চাঁদাবাজ আরিফ ও তার বাহিনী পিছুটান দেয়। গত রবিবার শহরের মাসকান্দা গনসার মোড়ের মাকতুম হোসাইন, আমলাপাড়ার মহিউল ইসলাম ও ফুলপুরের রাকিবুল আলম নামীয়দের নেতৃত্বে একটি চক্র আবারো দলিল লেখক অফিসে গিয়ে কতিপয় দলিল লেখকদের জিম্মি করে আবারো চাঁদা আদায়ের চেষ্ঠা করে। এ খবর পেয়ে সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনের নির্দেশে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখিত তিন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি দাবী করেন। মামলায় গ্রেফতারকৃতরা সহ আরিফ বাহিনীর প্রায় ২০/২২ জনকে আসামী করা হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য ময়মনসিংহ সদর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভানু সরকারের মৃত্যুর পর থেকে ময়মনসিংহ শহর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরিফের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী চক্র দলিল লেখকদের জিম্মি করে কথিত সমিতির নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছিল। বেআইনী চাঁদা আদায়ের ঘটনায় দলিল লেখকরা ইতিপূর্বে একাধিক বার জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা রেজিস্ট্রার, সাব রেজিস্ট্রার এর কাছে মৌখিক অভিযোগ ও লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম এর প্রতিবাদসহ বহু লোক মামলা ও জিডি করেও তেমন প্রতিকার পাননি। আরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দলিল লেখকরা অনেক সময় আরিফ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে শারীরিকভাবে নাজেহাল হয়েছে বলেও বহু অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই দলিল লেখা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন।

