সুমন ভৌমিকঃ গত ৩০ জানুয়ারী হোটেল আমির ইন্টারন্যাশনালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-কে কেন্দ্র করে তৃনমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বর্ধিত সভাটিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস ছালাম সরকার এবং সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মন্ডল। উক্ত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের মাটি ও মানুষের নেতা সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
বর্ধিত সভায় সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য, চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থীর আবেদন জমা পড়ে। সভায় নেতৃবৃন্দরা সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল কাউন্সিলরদের ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নির্বাচিত করা হবে। যথারিতি তৃনমূল কাউন্সিলরদের মধ্যে প্রায় সবাই কন্ঠ ভোটে হাত তুলে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নির্বাচিত করেন আশরাফ হোসাইনকে। সামান্য ভোটে দ্বিতীয় স্থানে থাকেন মোরশেদুল আলম জাহাঙ্গীর, তৃতীয় আবু সাঈদ দ্বীন ইসলাম ফখরুল, চতুর্থ রেজাউল হাসান বাবু নির্বাচিত হন।
সদর উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদ্বয়ের স্বাক্ষরকৃত বর্ধিত সভার কন্ঠ ভোটের ফলাফল লিপিবদ্ধ থাকার পরেও এবং সদর উপজেলার তৃণমূল কাউন্সিলরদের ভোট উপেক্ষা করে গ্রুপিং রাজনীতির উদাহরণ দিলেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ। কেন্দ্র পাঠানো নামের মাঝে তৃণমূলের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ বিষয়টি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন।
এখানে বলা বাহুল্য যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃৃনমূল নেতাকর্মীরা হচ্ছে দলের প্রাণ। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রাণের তৃনমূলের কাউন্সিলররা গত ৩০ জানুয়ারী বর্ধিত সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্ধারণে সকলে ভোট দেয়ার দাবী জানায়।
এ সময় ময়মনসিংহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মন্ডল জেলা আওয়ামী লীগের রেফারেন্স দিয়ে বলেন, ভোট দেয়া যাবে না। তারপরও তৃনমূলের কাউন্সিলরদের চাপে কন্ঠ ভোট নিতে রাজি হয় দায়িত্বশীল উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। বর্ধিত সভায় উপস্থিত ২৮০ জন তৃনমূলের নেতাকর্মী প্রায় সকলে দাঁড়িয়ে উচ্চ কন্ঠে ও হাত তুলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে আশরাফ হোসাইনকে সমর্থন দেন এবং কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে একক নাম পাঠানোর দাবী জানায়। দাবীর মুখে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাউজে বলেন আশরাফ হোসাইনের নাম এক নাম্বারে দিয়ে বাকী তিনজন মুর্শেদুল আলম জাহাঙ্গীর, আবু সাঈদ দীন ইসলাম ফখরুল, রেজাউল হাসান বাবুর নাম ক্রমানুসারে লিখে স্বাক্ষর দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠাবেন এই মর্মে স্বিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় ! জেলা আওয়ামী লীগ তৃনমূল কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত ১ম স্থানে থাকা প্রার্থীর নাম বাদ দিয়ে, রহস্যজনক কারনে মুর্শেদুল আলম জাহাঙ্গীর, মোঃ শাহীনূর রহমান মন্ডল, অধ্যক্ষ আবু সাঈদ দ্বীন ইসলাম ফখরুল এর নাম দিয়ে প্রার্থীর চুড়ান্ত লিস্ট কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এতে তৃনমূল নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ।
প্রশ্ন থাকে যে, ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, নান্দাইল উপজেলাসহ সমর্থন ও গোপন ব্যালটে ভোটের মাধ্যমে সুষ্ঠু ভাবে প্রার্থী নির্ধারন করা হয়েছে। এখানে কন্ঠ ভোটে জন সমর্থনে প্রার্থী নির্ধারণ করা হলেও রহস্যজনক কারনে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার তৃনমূলে কাউন্সিলরদের নির্বাচিত প্রার্থী আশরাফ হোসাইন এর নাম জেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রে প্রেরণ করেননি। কিন্তু কেন করা হলো না? তৃণমূল নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের কাছে জানতে চায়? সাধারণ কর্মীরা হতাশ।
এ ব্যাপরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস ছালাম সরকার একাত্তর বাংলা’কে জানান, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মন্ডল একই দিনে একই বিষয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ২টি বর্ধিত সভা দেখিয়ে স্বাক্ষর করে কিভাবে? আর কোন গঠনতন্ত্র বলে? আশরাফ হোসাইন ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগ রাজনীতির গ্রুপিং এর শিকার।
তিনি বলেন, একই দিনে বর্ধিত সভা ও গায়েবি বর্ধিত সভা দেখিয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মন্ডল। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগ যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে বিষয়টি দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধী বলে দাবী করেন।
তিনি আর বলেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী রাজনীতিতে কলঙ্ক অধ্যায় রচিত করেছে। তিনি আমাকে অবগত না করে কোন কাজ করতে পারেন না। আমি উনার এ রুপ কর্মকান্ডের জোর প্রতিবাদ জানাই।

