সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোণার জারিয়াগামী লোকাল ট্রেনগুলোতে ডাকাতির ঘটনায় ৪ যুবক গ্রেফতার হয়েছে রেলওয়ে থানা পুলিশের অভিযানে। রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন রেলওয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, পরপর দু’বার চলন্ত লোকাল ট্রেনে ডাকাতির ঘটনায় ঢাকা রেলওয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা পুলিশের সমন্বয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিক্তিতে সপ্তাহব্যাপী ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতদলের ৪ সদস্যতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দেশীয় চাকু, ক্ষুর, স্টেপ গিয়ার চাকু, হোল্ডিং চাকুসহ ৩টি মোবাইল ফোন। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা ডাকাতির দায় স্বীকার করেছে।
এছাড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ এর আগে আরেক ডাকাত মাকসুদুল হক নিশাদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছিল। ২০২১ সালে নিশাদ ট্রেনে সংঘটিত ডাকাতি ও খুনের মামলার প্রধান আসামি এবং গত ২ মাস আগে সে জামিনে বের হয়েছিল। এছাড়াও আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাদিক মামলা রয়েছে বলেও জানান রেলওয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো-নগরীর বলাশপুর আবাসন এলাকার কোরবান আলীর ছেলে রাশেদ (২২), ভাটিকাশর বড়বাড়ী আবুল কাশেমের ছেলে আকাশ মিয়া (২৫), চরকালীবাড়ি রবির ছেলে মো: ইমন (২২) ও বাবুল মিয়ার ছেলে মো: হৃদয় (২০)।
প্রেসব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিযুষ কান্তি দাস, ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাগণ।
প্রসঙ্গত, গত ১ ও ১৮ সেপ্টেম্বর নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় ডাকাত দলের সদস্যরা ট্রেনে উঠে মুখে কাপড় বেঁধে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মুঠোফোন, টাকাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে নেমে পড়ে। চলন্ত ট্রেনে ডাকাতিকালে ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কয়েকজন যাত্রী আহতও হয়। ডাকাতির ঘটনায় নগরবাসীর মাঝে রেলওয়ে পুলিশের বিষয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

