একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ একাধিক বার র্যাব ও পুলিশকে এসোল্টকারী, বহু সন্ত্রাসী ঘটনার নায়ক, সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রক, বালু মহল দখল, বহু মামলার আসামী আরিফের নেতৃত্বে গত ১৪ মে রাতে যুবলীগ নেতা রাসেল হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত দু’জনকে আটক করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ময়মনসিংহ নগরীর মৃত্যঞ্জয় স্কুলের ডিফেন্সপার্টি কার্যালয়ে গভীর রাতে রেজাউল করিম রাসেল (৩৫) কে এ্যালোপাথারী ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুবৃত্তরা। এ সময় খুনি চক্র ডিফেন্সপার্টির দু’সদস্যকে বাহিরে পাহাড়া দিতে বলে। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলা নং ৫১(৫)২০১৯। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের জালে গ্রেফতারকারীদ্বয় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের চৌকস অফিসার এস আই আকরাম হোসেনকে এ মামলার তদন্তভার অর্পন করা হয়। ঘটনা খতিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে, সমিতির নামে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজীতে যুবলীগ নেতা রাসেল ভাগ বসাতে চেয়েছিল। এটাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে রাসেলের। আরিফের নেতৃত্বে তাকে সড়িয়ে দেয়ার চিন্তা করা হয়। পরেই খুন হয় রাসেল।
যুবলীগ নেতা রাসেল হত্যার মূল আসামী আরিফ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বহুবার হাজার হাজার জনতা মানব-বন্ধন করে বিচার দাবী করে জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। প্রায় অর্ধশত জিডিসহ একাধিক মামলাও রয়েছে। শিল্প ও বানিজ্য মেলায় লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর অভিযোগ রয়েছে। এরশাদ সিকদারের মত হিন্দু ব্যক্তির জমি দখল, ঘাট দখল, সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রন, বালু মহল দখল ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজীতে তার নামডাক রয়েছে। এছাড়াও একাধিকবার তিনি পুলিশ ও র্যাবের সাথে অসাদাচারন করেছেন। অদৃশ্য গডফাদারের আর্শিবাদ পুষ্ট হওয়ায় এ পর্যন্ত তার গায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থ্যার আচঁরও লাগেনি!
গত মঙ্গলবার (১৪ মে) আনুমানিক রাত ২ টার দিকে নগরীর মৃত্যুঞ্জয় স্কুল রোড এলাকার ডিফেন্স পাটির কার্যালয়ে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল হাসান এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা রাসেলকে পরিকল্পিত ভাবে এ্যালোপাথারী ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ২ নং পুলিশ ফাড়িঁর এস আই দেবাশীস প্রথম ঘটনা স্থলে আসেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর পরই হত্যাকান্ডের কারন জানতে পুলিশের কয়েকটি দল মাঠে নামে। তবে যারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বাস দেন পুলিশের কর্মকর্তাগন। এরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ আজিজুল ও মোবারককে আটক করে। গতকাল তাদের আদালতে প্রেরন করা হলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, এই আস্তানাটি ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রনকারী চক্রের। জনশ্রুতি রয়েছে, এখানে আওয়ামী লীগের চলমান গ্রুপিং এর এক পক্ষের সমর্থিত সন্ত্রাসীরা নিজেদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতো এবং যারা আড্ডাদিত তারা সবাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের সমর্থিত নিহত রাসেল জেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। নিহত রাসেল শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ হরিপুর এলাকার জালাল উদ্দিন ওরফে জালাল ডিলারের ছেলে।
ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীর হাতে যুবলীগ নেতা রাসেল খুন, গ্রেফতারকৃতরা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে
Date:

