স্টাফ রিপোর্টারঃ গ্রাম্য সালিশে জুতাপেটার অপমান সইতে না পেরে রাজশাহীতে আত্মহত্যা করেছে এক স্কুলছাত্র। ইউপি সদস্য ও মাতুব্বরদের প্রকাশ্যে এমন বিচারের কারণে প্রাণ গেছে এই স্কুল ছাত্রের, দাবি নিহতের স্বজনদের।
এ অবস্থায় দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছে সহপাঠী ও এলাকাবাসী। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পুলিশের। আদরের ছোট্ট সন্তানকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি আর স্মৃতিচারণ।
স্বজনরা জানায়, বুধবার রাতে তারাবীর নামাজ শেষে পাশের গ্রাম পিরিজপুরে বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যায় জসিমউদ্দিন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে তার বাবা মজিবুর রহমানকে খবর দেয়।
এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে গ্রাম্য শালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বান্ধবীর সাথে কথা বলার অভিযোগে তার বাবাকে দিয়েই জসিমকে ২০ বার জুতা দিয়ে পেটানো হয়। এ অপমান সইতে না পেরে জসিমউদদীন আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন বিলের মাঝে তার লাশ পাওয়া যায়। গ্রাম্য শালিসের এক পেশে বিচারেই এ আত্মহনন বলে অভিযোগ তাদের।
নিহতের এক আত্মীয় বলেন, মোটরসাইকেলে উঠিয়ে একজনকে বলেছিলে ওকে নামিয়ে দিতে, আমি ভাবছি বাসায় চলে আসবে। আর বাড়ি আসেনি।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবি নিহতের সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের। একজন সহপাঠী বলেন, আমাদের বন্ধু এভাবে চলে যাবে সেটা তো মেনে নেয়া যায় না।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য রফিক মেম্বারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরেননি তিনি। আর পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে সে আলোকে ব্যবস্থা নেব।
পুলিশ জানায়, নিহত জসিম উদ্দীনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সে গোদাগাড়ীর পিরিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।

