একাত্তর বাংলা
উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও অস্বস্তি পরাভূত করে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল।
শনিবার (৬ জানুয়ারি) দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির মধ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।
এদিন সন্ধ্যায় তার ভাষণ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়। ভোটকে ঘিরে নাশকতা ও সহিংসতার কতিপয় সাম্প্রতিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিইসি।
সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে ভোট আয়োজনের কথা তুলে ধরে হাবিবুল আউয়াল হলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ হয়েছে। এখন কেবল ভোট গ্রহণ শুরুর অপেক্ষা।’
ভোটের দু’দিন আগে রাজধানীর গোপীবাগে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘পরিতাপের বিষয় নাশকতা ও সহিংসতা একেবারেই হচ্ছে না তা বলা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় ধন-সম্পদের ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি মানুষ আহত-নিহত হচ্ছে। নির্দোষ, নিরীহ, নিষ্পাপ শিশু, নারী, পুরুষের মর্মান্তিক ও মর্মন্তুদ মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। নাশকতা ও সহিংসতার কতিপয় সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।’
তবুও সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণকে অনুরোধ করছি আপনারা সকল উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অস্বস্তি পরাভূত করে নির্ভয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে অবাধে মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করে মূল্যবান নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন।’
সকল প্রার্থী ও ভোটারদের নির্বাচন বিষয়ক বিধি-বিধান অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তাকেও আইন ও বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুধাবন, প্রতিপালন ও প্রয়োগ করে সততা ও নিষ্ঠার সাথে নির্বাচন পরিচালনার সার্বিক বিষয়ে আরোপিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৈথিল্য, অসততা ও ব্যত্যয় সহ্য করা হবে না।’
ভোটে প্রার্থীদের কেউ জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, বা পেশিশক্তির ব্যবহার করলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলে হুশিয়ার করে দেন সিইসি হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, ‘কোনো প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট, ভোট কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, অর্থের লেনদেন ও পেশিশক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থিতা তাৎক্ষণিক বাতিল করা হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্র বা নির্বাচনি এলাকার ভোট গ্রহণ সামগ্রিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

