ভোরের কন্ঠঃ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার আশায় প্রতিদিনই অনেকে আবেদন করছেন মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য। এদের মধ্যে যারা ভুয়া আবেদন করছেন, তাদের আবেদন বাতিল করতে গেলেই মামলার মুখোমুখি হচ্ছে সরকার।
সবশেষ সপ্তম বারের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করতে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৫৮৬টি, এরমধ্যে শুধুমাত্র ২০১৭ সালেই মামলা হয়েছে ৩৭৪টি।
এ অবস্থায় একদিকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা যেমন তৈরি করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না বলে অসহায়ত্ব মন্ত্রণালয়ের কণ্ঠে।
অনেক রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এ স্বাধীনতা, যার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে বাঙালির যুগপৎ শোক আর গৌরবের বীরত্বগাথা। স্বাধীনতার পর ১৯৮৪ সালের প্রথম তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিলো ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৮ জন।
এরপর প্রতিবারেই ক্রমে বেড়েছে তা। সবশেষ ২০১৪ সালে ৭ম বারের মতো এ তালিকা করার উদ্যোগ নেয়া হলে আবেদন জমা পড়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৫১টি।
গত বছর যাচাই বাছাই শুরু হওয়ার পরই শুরু হয় জটিলতা। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এ সংখ্যাকে ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার পর যাদেরই অবেদন বাতিল করা হয়, তারাই আদালতের গিয়ে একের পর এক মামলা করতে থাকেন। ফলে থমকে যায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত করার কার্যক্রম।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল মহাপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সাক্ষর জাল করে কেউ যদি আবেদন করে যদি সেটা বাতিল করি। এমন মিথ্যা মামলায় আমাকে ৩ বছর ঝুলিয়ে রাখলো।’
মামলার সংখ্যা অর্ধসহস্রাধিক, দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়ানো। তাই সবগুলো মামলাকে একটি আদালতে এনে ফয়সালা করার প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ‘সবার অভিযোগ একই। কমিটির বিরুদ্ধে।’
তবে যারা ভুয়া অবেদন যারা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ট্রাস্টি মফিদুল হক, ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের যেনো শাস্তি দেওয়া হয়। যেনো এমন পবিত্র বিষয় নিয়ে কেউ অসাধু কার্যক্রম না চালায়।’
৪৭০টি উপজেলায় যাচাই বাছাই শুরু হলেও মামলার কারণে আটকে যায় ১১৬টি উপজেলার কার্যক্রম। নানা অনিয়মের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত চলতি মাসে যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে মন্ত্রণালয়।

