একাত্তর বাংলাঃ নদীতে প্রয়োজনীয় পথ নির্দেশক বয়া-বাতি না থাকায় কালবৈশাখী মৌসুমে নদীপথ ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলা অসংখ্য মালবাহী নৌযান ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দেবে বলে শঙ্কায় রয়েছেন লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তায় বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের পাশাপাশি আরো কঠোর হতে হবে বিআইডব্লিউটিএ’কে। সরকার বলছে, নদীপথে কালবৈশাখী মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
যতদূর চোখ যায়, সবদিকেই অথৈ জলরাশি। কালবৈশাখি মৌসুম হওয়ায় কূল কিনারাহীন পদ্মা-মেঘনা যেন আরো ফুলে ফেঁপে উঠেছে। এসবের মধ্যেই হাজারো যাত্রী বুকে ধারণ করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাচ্ছে যাত্রীবাহী লঞ্চ।
তবে নদীর অনেকাংশেই পথ নির্দেশক বয়া বাতি না থাকায় কালবৈশাখি মৌসুমে নদীপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কায় রয়েছেন লঞ্চচালকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশীর ভাগ সময়ই কালবৈশাখি ঝড়ের কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না, তাই এ মৌসুমে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে বিশাল নদীপথকে শৃঙ্খলায় আনার পাশাপাশি ত্রুটিমুক্ত করতে হবে সব নৌযানকে। পাশাপাশি প্রত্যেক যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করার পরামর্শ তাদের।
বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট মো. ইমরান উদ্দিন, ‘নাবিকদের পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যা যা দরকার তার সবই লঞ্চে রাখতে হবে।’
নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্যটা এখানে যে, বয়া, বাতি চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিতে আসলেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বয়া, বাতি দিয়ে দেই।’
সরকারি হিসেব মতে, গত একযুগে নদীপথে কমপক্ষে ২৬৪ টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় পনেরশ মানুষ।

