একাত্তর বাংলাঃ ঝড় ও বজ্রপাতে নড়াইলের অরুনিমা রিসোর্টে এক রাতে কয়েক হাজার পাখির মৃত্যু হতবাক করেছে এলাকাবাসীকে।
বক, শালিক, ঘুঘু ও পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির এত পাখির মৃত্যুর কারণ হিসেবে বনায়নের হার কমার কথাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে মানুষের জন্য বিপর্যয়ের পূর্বাভাস বলেও মনে করছেন তারা।
হাজারো পাখির কলকাকলিতে মাত্র দু’দিন আগেও মুখর ছিল নড়াইলের অরুনিমা রিসোর্ট। সেই পার্কে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। নেই কোনো পাখির আনাগোনা।
সোমবার গভীর রাতে পাখিদের এই অভয়ারণ্যে চলে প্রকৃতির তাণ্ডব। ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতে প্রাণ হারায় কয়েক হাজার পাখি। মাত্র ১৫ মিনিটের তাণ্ডবে সেদিন পুরো পার্কই তছনছ হয়ে যায়। ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পার্কটির স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য।
অরুনিমা রিসোর্টের মহাব্যবস্থাপক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, পাঁচ প্রজাতির পাখি মারা গেছে। বক, পানকৌড়ি, শামুকখোলা, কাচিচুলা, খয়েরা। আর আছে শালিক ও ঘুঘু। আমরা চেষ্টা করছি যে পাখিগুলো আছে তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়ার।
বাণিজ্যিক বনায়নের কারণেই এভাবে হাজার হাজার পাখিকে প্রাণ হারাতে হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাখি বিশেষজ্ঞ ইমাম উল হক বলেন, বক একজায়গায় হাজারে হাজারে বসবাস করে। ফলে এসব জায়গায় কিছু ঘটলে অনেক পাখি একসঙ্গে মারা যায়। পাখিদের কোটি বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আগে তারা উঁচু গাছ এড়িয়ে চলতো, ফলে বজ্রপাতে এতো পাখি মারা যেতো না।
এই ঘটনাকে মানুষের জন্য সতর্ক বার্তা বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বজ্রপাত গবেষক ড. মুনির আহমেদ বলেন, একই ধরনের গাছ লাগানো হচ্ছে, যেগুলো হয়তো বিদেশি গাছ, যেগুলো আমাদের দেশের পাখির জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে পারছে না। মানুষের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারতো।
দুর্যোগ এড়াতে সবাইকে আরো সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এ বিশেষজ্ঞ।

