একাত্তর বাংলাঃ ঠাকুরগাঁওয়ে গরু জব্দকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নারীসহ অন্তত ১৫ জন। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
অবৈধভাবে ভারত থেকে গরু আনার অভিযোগে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বকুয়া ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকার বহরামপুর গ্রামের হবিবুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালায় বিজিবি। এ সময় বেশ কয়েকটি গরু জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। এতে বাধা দিলে বিজিবি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে বিজিবি। ঘটনাস্থলেই নিহত হন ২ জন। গুরুতর আহত অবস্থায় ১৭ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও দুইজন মারা যান।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে নির্যাতন করা হয়েছে। এর জন্য দায়ী বিজিবি’র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
নারী ও এক এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ গুলিবিদ্ধ ১৫ জনকে দিনাজপুরের এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দিনাজপুরের এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএমও ডা. মতুর্জার রহমান বলেন, আহতদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজনের অবস্থা খুবই খারাপ। অন্যরা আশঙ্কামুক্ত।
দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম।
তিনি বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং এ ঘটনায় আহতদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে সহায়তা করা হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনা নিষ্পত্তি করা হবে।
ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

