একাত্তর বাংলা ডেস্ক
প্রাথমিকভাবে নতুন একটি গ্রহাণু আবিষ্কার করেছে জনপ্রিয় বিজ্ঞান গ্রুপ ‘একটুখানি ফিজিকস’ তিন শিক্ষার্থী। গত ১০ অক্টোবরে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সার্চ কোলাবোরেশন (IASC) কর্তৃক আয়োজিত গ্রহাণু সন্ধানের এক ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করে তারা এই কাজ করে। গ্রহাণুটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিলিয়ে নামকরণ করা হয়েছে BD1971। বাংলাদেশের নামে এটাই প্রথম কোনো গ্রহাণু।
নামকরণ করা এই তিন শিক্ষার্থী হলেন- নারায়ণগঞ্জের সরকারি কদম রসূল কলেজের অন্তর চন্দ্র, টাঙ্গাইলের ইব্রাহিম খান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আতিক হাসান এবং ময়মনসিংহের শহীদ সায়েদ নজরুল ইসলাম কলেজের শিক্ষার্থী নওশিন জাহান।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, সুদূর অতীতে মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে একটি গ্রহ ছিল যা ধ্বংস হয়ে বিভিন্ন খণ্ডে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সেই ধ্বংসাবশেষগুলোকে আমরা গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েড নামে চিনি। এই গ্রহাণুগুলো মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী অঞ্চলে বেষ্টনীর আকৃতি গঠন করেছে, যাকে ইংরেজিতে ‘মেইন অ্যাস্টেরয়েড বেল্ট’ বলে।
গ্রহাণু অনুসন্ধানে তারা তাদের দলের নাম দেন ‘একটুখানি ফিজিকস’। গ্রহাণু অনুসন্ধানের কাজে নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার কাজ করেছে অন্তর চন্দ্র। সৌরজগতে গ্রহ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক পাথরের বস্তু খণ্ড সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
নাসা ও হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের ‘প্যান-স্টার টেলিস্কোপ’ সেই অ্যাস্টেরয়েড বেল্ট অঞ্চলের ছবি তুলে সারাবিশ্বে সিটিজেন সায়েন্টিস্টদের (যারা পেশাগত বিজ্ঞানী নয় তবে বিজ্ঞানের জন্য কাজ করে) জন্য ছবিগুলো উন্মুক্ত করে দেয়। সেই ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে নতুন কোনো গ্রহাণুর খোঁজ পেলে তাদের জানাতে হয়।
এই প্রোগ্রাম আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সার্চ কোলাবোরেশন (আইএএসসি) নামের সংস্থা। নাসা ও প্যান-স্টার টেলিস্কোপ হলো- এই প্রোগ্রামের আয়োজক। প্রতিমাসেই IASC সংস্থা বিভিন্ন ক্যাম্পেইন আয়োজন করে। আর ক্যাম্পেইনে যে কেউ যেকোনো বয়সি লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে। এর জন্য আগে থেকে ক্যাম্পেইনে আবেদন করতে হবে।

