বাবু চৌধুরীঃ জাতীয় সংসদের ৪১, বগুড়া-৬ ( সদর ) আসনের উপ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বগুড়া-৫ আসনের সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বগুড়া-৬ সদর আসনের উপ নির্বাচনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী । দলের হাইকমান্ড তাকেই ধানের শীষ প্রতিক বরাদ্দের চিঠি দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয় লাভ করে সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করার নির্দেশনা দিয়েছে।
কারাবন্দি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতেই বিএনপি এই উপ-নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে। বগুড়ার জনগণ ধানের শীষের প্রার্থিকে জয়ী করবে বলে ভোটারদের মতামতের পাল্লা অনেকটাই ভারী । দলীয় কোন্দল নেই তবে কিছুটা বিশৃংখলা দৃশ্যমান।
বিএনপির প্রার্থী সিরাজ বলেন, বগুড়া সদর আসনে আমরা সুষ্ঠু , অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। কিন্তু ইভিএম এর কারচুপি চাই না। ইভিএম-এ ভোট প্রদান করা সহজ। কিন্তু ইভিএম এর সফটওয়্যার থাকবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে। ইভিএম নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। আমার ধারণা, সরকার বিতর্কিত ইভিএম ব্যবস্থা জায়েজ করতেই বগুড়ার নির্বাচনে ব্যবহার করছে। এতে সরকার দেখাতে চায়, ধানের শীষ বিগত নির্বাচনের চাইতে আরো বেশি ভোট পেয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র ৯ প্রার্থীর প্রচারণা জমে উঠছে। সর্বত্রই পোস্টারে ছেয়ে গেছে; মাইকিংও চলছে। প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। এ আসনে নৌকা ও ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং ধুনট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বগুড়া-৫ আসন। এই আসনের ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৭ জন।
ধুনট উপজেলা থেকে ৩ জন, শেরপুর উপজেলা থেকে ৫ জন ও বগুড়া সদরের একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি হাবিবর রহমান (নৌকা), বিএনপির সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মীর মাহমুদুর রহমান (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবদুন নূর (আম), স্বতন্ত্র আবদুর রউফ মণ্ডল (মাথাল), ইসলামী ঐক্যজোটের নজরুল ইসলাম (মিনার), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রঞ্জন কুমার দে (কোদাল) ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সন্তোষ কুমার পাল (কাস্তে)।

২০০১ সালের নির্বাচনে পরপর চার দফায় বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জানে আলম খোকাকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক পুলিশ সুপার হাবিবর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও নির্বাচিত হন।
এবারের নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান (নৌকা) ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ) দু’জনই হেভিওয়েট প্রার্থী। দুই প্রার্থীরই রয়েছে জনপ্রিয়তা। তাই এ আসনে নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
আগামী ২৪ জুন বগুড়া সদর আসনে ১৪১টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করা হবে।

