একাত্তর বাংলাঃ শ্রীলঙ্কার ৭০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ওঠেছে বাংলাদেশ-ভারত। আর ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশ টি-টিয়েন্টি ও ওয়ানডেসহ পাঁচটি ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু কখনো টাইগার সেনারা শিরোপা উঁচু করে দেখাতে পারেন নি বাংলাদেশে কোটি ক্রিকেট প্রেমীদের।
আবারো বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল !
তবে বাংলাদেশের ফাইনাল মানেই যে স্বপ্নভঙ্গ। এবার বাংলাদেশের সেই দুঃসহ স্মৃতি ভোলার সুযোগ এসেছে কলম্বোতে। ভারত শক্তিশালী দল, কিন্তু নিজেদের দিনে টাইগাররা দুর্বার। লঙ্কা বধের ধারাবাহিকতায় ভারতকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জয়ের উৎসবে মাতার অপেক্ষায় ভক্তরা। সিনিয়রদের পাশাপাশি নতুনরাও ভূমিকা রাখলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব, বলছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে দু’দলের ফাইনাল।
আরো একটা ফাইনাল। আবারো একটা স্নায়ুযুদ্ধ। প্রতিপক্ষ ভারত বলেই, মাঠের ক্রিকেটে লড়াই শুরু আগে, যা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা দর্শকদের মাঝে।
প্রেমাদাসায় লঙ্কানদের বিপক্ষে স্মরণীয় দুই জয়ের পর স্বপ্নটা হয়েছে আরো বড়। বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। মিরপুরে যা সম্ভব হয়নি সেই আক্ষেপ কি ঘুচবে প্রেমাদাসায়? সেটা অবশ্য প্রমাণ হবে মাঠের খেলায়। টাইগার ভক্তরা আশায় বুক বাধছেন। তাদের অপেক্ষা টাইগার ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম কোনো টুর্নামেন্ট জয়ের উৎসবের মাতার।
তবে কি এই এবার কাটবে শিরোপার খরা…।
বাংলাদেশের টি-টিয়েন্টি জয়ের ধারায় শুরু হয়েছে ২০০৭ সালে। সেবার মোহাম্মাদ আশরাফুলের নৈপুণ্যে টাইগাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায়। এই থেকে টি-টিয়েন্টিতে বাংলাদেশের জয়যাত্রা শুরু।
আর ২০০৯ সালে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে দাপুটে ক্রিকেট খেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনাল হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় টাইগারদের।
২০১২ সালের এই মার্চ মাসে এশিয়া কাপে ফাইনাল হেরে সাকিব-মুশফিক যেমন কাঁদেন, তেমনি কাঁদেন সারা দেশের কোটি ক্রিকেট বক্তরা।
এরপর ২০১৬ সালের মার্চে মিরপুরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালেও পাকিস্তানের কাছে হারে বাংলাদেশ।
২০১৭ সালের মে থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আরও তিনটি ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। সেবারও গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালে গিয়ে ওই নিউজিল্যান্ডের কাছেই হেরে যায় মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা।
আর সবশেষ দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের স্মৃতি তো এখনও দগদগে। ‘ফেরাবিট’ হিসেবে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশের।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ হেরেছে পাঁচ-পাঁচটি ফাইনাল। জয়ের কাছে গিয়েও উঁচিয়ে ধরা হয়নি শিরোপা। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচ তাই শুধু ফাইনাল না! আগের পাঁচটি ফাইনালের হিসাব মেলানোর সুযোগও বলা চলে। আজ কি সাকিব আল হাসানের দল পারবে ফাইনালের সেই জুজু কাটাতে ?
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের দরকার ৪ কৌশল
বিসিবি’র গেম ডেভেলপমেন্ট কোট নাজমুল আবেদীন ফাহিম। ফাইনাল হারের হৃদয়ভাঙ্গা যন্ত্রণাদায়ক স্বাদ যেন আর পেতে না হয়, সেই কাজটা মাঠে দেখাতে পারবে কি বাংলাদেশ। এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে খেলা শেষ হবার পর
। কিন্তু ম্যাচ কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সেই পথ হয়তো খুঁজে পেয়েছে গেম ডেভেলপমেন্ট কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম।
তিনি মনে করেন, ভারতের বিপক্ষে জয়ের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ব্যাপার মাথায় রেখে এগুতে হবে।
তাঁর মতে, ভারতের মূল শক্তি টপ অর্ডার। শেখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা এই দলটির নিউক্লিয়াস। এ দুজনকে দ্রুত ফেরাতে হবে।
তিনি বলেন, ভারতের প্রধান ব্যাটসম্যান ও বোলাদের কথা মাথায় রেখে খেলতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ভালো সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই ছন্দটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টি-টোয়েন্টি স্বল্প সময়ের খেলা, গতি বদলাতে পারে খুব দ্রুত। তাই ছন্দ কাজে লাগানোর ওপর নির্ভর করবে কে জিতবে।
বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ভালো শুরু করাটা খুব দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের এই মেন্টর। তামিম নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো রান পেয়েছে, যা দলের ব্যাটিংয়ে ভারসাম্য এনেছে।
নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, ব্যাটিং হোক কিংবা বোলিং শুরুটা ভালো করা জরুরী। শুরুতে পিছিয়ে পড়লে ছন্দ ফিরে পাওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাদে কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে জয়ের দেখা পায় নি বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে ঢাকায় বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটে হারে বাংলাদেশ।
২০১২ সালে এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাত্র ২ রানের জন্য শিরোপা বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।
চার বছর পর ২০১৬ সালে আবারও শক্তি প্রদর্শন করে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। সেবারও ভারতের বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় হার বাংলাদেশের।
সবশেষ বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে ৭৯ রানের হারটা আবারও মনে করে দেয়, ফাইনাল মানেই বাংলাদেশের জন্য বেদনাবিধূর মঞ্চ, হৃদয়ভাঙ্গা কান্নার দিন।
তবে এবার আর কোনো ভুল নয়। দলীয় পারফরমেন্সেই ভারত বোধ করবে বাংলাদেশ। প্রেমাদাসায় টাইগার শিবিরে খেলুয়াড়দের চোখে মুখে গভীরভাবে সেই অভাসই ফুটে ওঠছে।


