একাত্তর বাংলাঃ এসএসসি পরীক্ষা শুরুর আধঘণ্টা আগে কেন্দ্র থেকেই প্রশ্নফাঁস হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে কে বা কারা এর পেছনে রয়েছে সে বিষয়ে জানাতে পারেনি গোয়েন্দা পুলিশ। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ১৪ জনকে আটকের পর সংবাদ সম্মেলনে একথা জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এদিকে একই অভিযোগে নওগাঁ ও ময়মনসিংহ থেকে দুই শিক্ষকসহ ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়েই চলছে এবারের এসএসসি পরীক্ষা। প্রতিটি পরীক্ষার আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে প্রশ্ন। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের দাবি. ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন ফাসঁ করে এই চক্রটি। বেশিরভাগ সময় পরীক্ষার দিন সকালে কখনো কখনো আগের দিন রাতে বিভিন্ন সেটের প্রশ্ন ফাঁস করে তারা। পরবর্তীতে বিকাশ কিংবা রকেটের মাধ্যমে টাকা আদায় করে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কমিশনের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে যখন প্রশ্ন প্রতিটা হলে যায়, তখন প্রশ্নের বান্ডেল খোলা হয়। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে হাজার হাজার সেন্টার, হাজার হাজার কেন্দ্র এখানে লক্ষাধিক মানুষ জড়িত। এর মধ্যে থেকে কেউ হয়ত পরীক্ষা শুরুর আগে কোনো দুষ্টু লোক মোবাইলে এটার একটা ছবি তোলে ছেড়ে দেয়।’
তবে এই চক্রের হোতারা প্রশ্ন পায় কিভাবে, কারা রয়েছে তাদের পেছনে সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন আরও বলেন, ‘ওরা যে কোথা থেকে পায় তা জানতে হলে ছয় মাস লাগবে। কারণ এই চক্রের প্রায় এক হাজার চেইন রয়েছে।
এদিকে শনিবার সকালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল কেন্দ্রে এসএসসির গণিত পরীক্ষা চলাকালে একজন অভিভাবক মোবাইল ফোনের ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের উত্তর দেয়ার সময় ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন পরীক্ষায় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাপুনিয়া এলাকা থেকে আরো ৬ জন এবং বিদ্যাগঞ্জ এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়। আটক ৮ জনের মধ্যে ৩ জন পরীক্ষার্থী বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আশিকুল রহমান জানান, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আত্মকৃতদের মোবাইলে থাকা প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্ন হুবহু মিল পাই। আমরা মোট চারজন অভিভাবককে গ্রেফতার করি।’
এছাড়া নওগাঁ থেকে একই অভিযোগে দুই শিক্ষকসহ সাতজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

