ঢোল বাজাঁনোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বকশীগঞ্জে পীর ভক্তদের তান্ডবে আহত-৮ ॥ বাড়িঘরে হামলা,ভাংচুর
উৎপল মহন্তঃ বকশীগঞ্জে ডাকঢোল পিটিয়ে গরু খাসি নিয়ে মিছিল সহকারে পীরের আস্তানায় যাওয়ার পথে পীর ভক্তদের সাথে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষ,বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছে।
গুরুতর আহতদের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত রোববার বিকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর নতুনপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানাগেছে,রোববার বিকালে মেরুরচর ইউনিয়নের কলকিহারা ও ফকিরপাড়া গ্রামের পীরভক্ত শতাধিক মুরিদ ডাকঢোল পিটিয়ে মিছিল সহকারে গরু ছাগল নিয়ে উপজেলার দত্তেরচর এলাকার আজমীরগঞ্জ দরবার শরীফে যাচ্ছিলেন।
বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আজমীরগঞ্জ দরবারের ভক্ত মুরিদগণ মেরুরচর নতুনপাড়া গ্রাম অতিক্রম কালে এলাকার এক গৃহবধু বাদ্যযন্ত্রের বিকট শব্দে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
এ সময় গৃহবধুর পরিবারের পক্ষ থেকে পীর ভক্তদেরকে বাদ্যযন্ত্র না বাজাতে অনুরোধ করেন। এই নিয়ে গ্রামবাসী ও পীর ভক্তদের মধ্যে বাক বিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তেজিত পীরের মুরিদগণ স্থানীয় বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুর চালায়।
এতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৮ জন আহত হয়। আহতের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এ ব্যাপারে মেরুরচর নতুনপাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ,তুচ্ছ ঘটনায় প্রায় এক চারশজন পীরভক্ত মুরিদ উত্তেজিত হয়ে বাড়িঘরে ভাংচুর চালায় এবং যাকে সামনে পায় তাকেই মারধোর করে। তাদের নেতৃত্ব দেয় পীরভক্ত কাসেম আলী,শুক্কুর আলী,সৈয়দ জামাল,সাইদুর হোসেন,রফিকুল,হযরত,মোস্তফা ও সুরুজ আলী।
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম হোসেন বলেন,এ ব্যাপারে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এই ঘটনায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা হয়নি। এলাকার জনমনে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

