মোঃ খায়রুল আলম রফিকঃ সম্পত্তির লোভে নিজের পিতাকে খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি সফর আলী । পিতাকে হত্যার বিষয় পূঁজি করে ভাইকে সেই হত্যা মামলার আসামিসহ একের পর এক মিথ্যা নাটক মঞ্চায়ন করে চলেছে ।
নিজের গর্ভধারিনী মাকে সামাজিভাবে পাগল হিসাবে উপস্থাপন করছে। ছোট ভাইকে পিতার হত্যা মামলার আসামি করে আবার সেই মামলায় জামিনে মুক্ত করতে মার নিকট থেকে কেড়ে নিচ্ছে জমি ও নগদ টাকা । মা এবং ভাই-ই নন । সাজানো মিথ্যা নাটক থেকে রেহাই পাননি আজহারুল ইসলামের বোনেরাও । তাদেরকেও উপর্যুপরী নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে সফর আলী ।
লোমহর্ষক এই ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পাহাড় অনন্তপুর গ্রামে গত ২০১৩ সালে । ঐ গ্রামের আমেনা খাতুনের অভিযোগ, তারই পুত্র সফর আলী তার পিতা ৭৫ বছর বয়সী জয়নাল আবেদীনকে হত্যা করে ।
২০১৩ সালের ২৯ জুলাই চিকিৎসা করাবে বলে সফর আলী তার পিতা জয়নালকে ডেকে নিয়ে যায় তার বাড়িতে, এরপর তাকে হত্যা করে । পিতাকে হত্যার পর সফর আলীই বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় হত্যা মামলা করেন । মামলা নং- ২৮ । তাং- ৩০-০৭-২০১৩ ।
মামলা করার সময় থানা পুলিশকে মিথ্যা বলে সফর আলী । সে থানা পুলিশকে জানায় তার মা পাগল ! ঐ মামলায় সে তার ছোট ভাই আজহারুল ইসলামকে মামলার এক নম্বর আসামি করে ।
আমেনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী জয়নাল আবেদীনকে আমার বড় ছেলে সফর আলী এবং তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন মিলে হত্যা করে । পিতাকে হত্যার উদ্দেশ্য আমাদের সম্পত্তি আত্মসাত করা এবং পিতার সম্পত্তি তারই ভাই- বোনদের সেই ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করা ছিল তার পূর্বপরিকল্পিত পরিকল্পনা। পরিকল্পনার নীল নকশার অংশ হিসাবে সে তার ছোট ভাইকে মামলার আসামি করে এবং নিজের বোনদের নির্যাতন করে চলেছে ।
আমেনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, যেদিন আমার স্বামী খুন হন । তারও ৩ দিন আগে আমার ছোট ছেলে আজহারুল ইসলাম মুন্সিগঞ্জে তার শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলো । আমার ফোন পেয়ে বাবাকে দেখতে আসে আজহারুল ইসলাম । কিন্তু সফর আলীর অব্যাহত হুমকি এবং তাকেও হত্যা করা হবে বলে ভয় দেখালে সে পালিয়ে থেকে ৬ মাস পর আদালতে জামিন চেয়ে আত্মসমর্পন করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ।
এদিকে আজহারুলকে জামিনে মুক্ত করার নামে আমেনা খাতুনের নিকট থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সফর আলী।
এছাড়াও সফর আলী তার পৈত্রিক ওয়ারিশের অর্থাৎ নিহত পিতার ১৮ লাখ টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে আত্মসাত করেছে বলে জানান মা আমেনা খাতুন । জমি বিক্রি ও সম্পত্তি আত্মসাত করার সময় মানুষকে বলে যে আমার মা আমেনা খাতুন পাগল ।
আমেনা অভিযোগ করে বলেন, এত পাষন্ড সফর আলী যে, সে বাড়িতে আমাকে শেকল পড়িয়ে রাখতো । কোথাও যেতে পর্যন্ত দিত না । আমাকেও হত্যা করবে বলে হুমকি দেয় ।
সফর আলী এতটাই নিষ্ঠুর যে সে তার বোনদের পর্যন্ত নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছে । সে বলে যে, পিতার মত তাদেরকেও হত্যা করা হবে । এসব করে সে আমাদের অবশিষ্ট জমি- জমা বেদখল করে রেখেছে ।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বৃদ্ধা আমেনা খাতুন । এ বিষয়ে জানতে চাইলে সফর আলী জানান, আমার মা মিথ্যা বলছে, আমি বাবাকে হত্যা করেনি ।

