নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালেও বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন। এসব নির্যাতনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হোক।
শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতারা।
হিন্দু মহাজোটের নেতারা বলেন, ‘এ দেশে যতবারই নির্বাচন হয়েছে, ততবারই হিন্দু সম্প্রদায় নির্যাতিত হয়েছে। এমন অবস্থা থেকে সমাধানের পথ সরকারকেই বের করতে হবে। কারণ সরকার নিরাপত্তাদানে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচনকালীন সনাতন ধর্মের মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন। গত সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা এক সংবাদ সম্মেলনে আশঙ্কা করেছিলাম, এবারও সংখ্যালঘু সম্প্রদয়ের মানুষরে ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটবে। নির্বাচনের পর সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, ফরিদপুর, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, গাইবান্ধা, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, মাদারীপুর, ঠাকুরগাঁও, মুন্সীগঞ্জ, কুষ্টিয়া, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ভোট দেয়নি- এমন অজুহাতে নির্বিচারে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। কোনো কোনো জেলায় পরাজিত প্রার্থী এবং আবার কোনো কোনো জেলায় বিজয়ী প্রার্থীর নেতা-কর্মীরা একই অজুহাতে নির্যাতন চালিয়েছেন, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।’
ওই সব হামলার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে তারা বলেন, সরকার যদি এখনই এর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামী উপজেলা নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে। তাই যত দ্রুত সম্ভব বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন হিন্দু মহাজোটের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। সভাপতিত্ব করেন হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি সুধাংশু চন্দ্র বিশ্বাস, প্রধান সমন্বয়কারী ড. সোনালী দাস, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রণজিত কুমার মৃধা প্রভাস চন্দ্র মণ্ডল, যুগ্ম মহাসচিব শিপন কুমার বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক আশীষ বাড়ই প্রমুখ।

