একাত্তর বাংলাঃ-
নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার শিকার হয়েছেন বগুড়া-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাহালু বাজারে এ হামলা হয়। এ সময় তাঁর দুই সমর্থক মোর্শেদুল রবি ও আব্দুস সালাম আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হামলার ঘটনায় হিরো আলম কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন।
আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী। তিনি ডাব মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে শনিবার নন্দীগ্রামের মুরাদপুর বাজারে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ আনেন হিরো আলম।
আজ রাত ৮টার দিকে হিরো আলম বগুড়া সদরের এরুলিয়ায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে জানান, পাঁচপীর এলাকায় প্রচারণা শেষে ১০-১৫ কর্মী-সমর্থকসহ তিনি কাহালু বাজারে আসেন। এই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী ও মৎস্য ব্যবসায়ী রমজান তাদের প্রাচরণা চালাতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে রমজানের সঙ্গে উপজেলা তাঁতিলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা যোগ দিয়ে হিরো আলমে ওপর প্রথমে হামলা চালানো হয়। এই সময় তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরে তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজ সমকালের হাতে এসেছে।
হিরো আলম বলেন, ‘শনিবার নন্দীগ্রামে হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, এরপরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাকে এত ভয় কেন? তাঁরা বুঝতে পেরেছে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বারবার তানসেনের পক্ষ নিয়ে আমার ওপর হামলা চালাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘হামলার সময় বিএনপির সাবেক এমপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জিউয়াউল হক মোল্লার দুজন সমর্থকও ছিলেন। তবে তাঁদের পরিচয় জানিনা। এই সব হামলা করে লাভ হবেনা। প্রয়োজনে আমাকে হত্যা করেন, তবে আমার কোনো সমর্থককে মারধর করবেন না। ভোটের শেষদিন পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। হিরো আলমকে হত্যা না করা পর্যন্ত ভোটের মাঠ থেকে সরানো যাবেনা। আজকের হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করব। পাশাপাশি দুদিনের হামলার ঘটনা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাব।’
এই বিষয়ে জানতা চাইলে কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, কাহালুতে আওয়ামী লীগের সরাসরি কোনো প্রার্থী নেই। তাই কারও সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানোর প্রশ্নই আসেনা। এইসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর দায় সংগঠন নেবেনা।
কাহালু থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, হামলার ঘটনায় একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। আশরাফুল এখনও লিখিত অভিযোগ জানাননি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

