একাত্তর বাংলাঃ দেশে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। প্রতি বছর নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হয় গড়ে দেড়লাখ।
কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। এসবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়ও।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে সচ্ছল মানুষদের একটি বড় অংশ চলে যায় দারিদ্র্যসীমার নিচে। তাদের অভিমত, আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রের আদলে স্বাস্থ্যখাতকে আনা উচিত বীমা ব্যবস্থার আওতায়।
ক্লাস-সিক্স পড়ুয়া মনিকা, মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় মলিন মুখ, হাসিহীন। আর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সব হারিয়ে এখন প্রায় নিঃস্ব মুদি দোকানী বাবা। বলছিলেন, মেয়েকে বাঁচানোর একমাত্র চিকিৎসা বোনম্যারো প্রতিস্থাপনের ব্যয় মেটানো তার পক্ষে সম্ভব নয়।
মনিকার ছল ছল চোখের নিষ্পলক চাহনিই বলে দেয়, নিয়তির কাছে কতটা অসহায় মানুষ।
মনিকার বাবা বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৩০-৩৫ লাখ টাকা বাচ্চার জন্য খরচ করেছি। এখন আর আমার কাছে কিছু নেই।’
পরিবেশ দূষণ, খাদ্যে ভেজালসহ নানা কারণে বাড়ছে এমন মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। অন্যদিকে চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে প্রতিবছর নতুন করে দরিদ্র হচ্ছে অনেক পরিবার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ২০১১ সালে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত দেশের আদলে বীমা ব্যবস্থা চালু করে এ-অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব।
বাংলাদেশ ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল নির্বাহী পরিচালক মোয়াররফ হোসেন বলেন, ‘রোগ যখন হয়, খুব দ্রুত পরিবারের পক্ষে টাকা যোগাড় সম্ভব নয়। যদি সে বীমার অন্তর্ভুক্ত থাকে তাহলে তাকে টাকার চিন্তা করতে হবে না।’
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। বীমা আসলেও শোষণের হাতিয়ার হয় কিনা সেটা দেখতে হবে।’
দেশের স্বাস্থ্য নীতিমালা বলছে, প্রতি ১শ’ টাকা চিকিৎসা ব্যয়ের ২৩ টাকা বহন করে সরকার, বাকি টাকা খরচ হয় অসুস্থ ব্যক্তির পরিবারের।
হঠাৎ নেমে আসা দারিদ্র মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারে স্বাস্থ্য বীমা। তবে এ জন্য দরকার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা। অবশ্য ভুল পদক্ষেপ আর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকলে মৌলিক চাহিদার এ খাত বাণিজ্যের দখলে চলে যাওয়ারও আশঙ্কা তাদের।

