রাশেদ সরকারঃ বগুড়া’র শেরপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো এসআর কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ। ১৬ ডিসেম্বর এসআর কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ শুভ উদ্বোধন করেন এসআর গ্রুপ এর চেয়ারম্যান ও বগুড়া-৬ সদর আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ। এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ উৎপাদন করবে কস্টিক সোডা, ব্লিচিং ফাইন ও ব্লিচিং পাউডারসহ ৭ ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহনাজ সিরাজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসিফ সিরাজ রব্বানীসহ প্রমুখ। উদ্বোধনী দিনে কারখানায় উৎপাদিত ১০৭ মেট্রিকটন রাসায়নিক দ্রব্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ দেশে ৭ ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য টেক্সটাইল ও পেপার কারখানায় সরবরাহ করে বছরে ২০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে ।

এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রব্বানী জানান, কস্টিক সোডা, ব্লিচিং ফাইন ও ব্লিচিং পাউডারসহ ৭ ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন করবে এ প্রতিষ্ঠান। এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ এর তৈরি পণের বাজার ভারত, শ্রীলংকা ও মিয়ানমারসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রয়েছে। উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই চীনা কোম্পানি (ডিজু কেমটিকস কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড) বছরে ১২ হাজার টন ব্লিচিং ফাইন নিতে চায়। তবে দেশে চাহিদা থাকায় প্রাথমিকভাবে মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৬ হাজার টন চীনে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
আসিফ রব্বানী আরো জানান, বগুড়ার শেরপুরে ১০০ বিঘা জমির উপর প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার এই প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের একমাত্র ইন্ডাস্ট্রিজ। এসআর কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের রাসায়নিক দ্রব্য টেক্সটাইল ও পেপার শিল্পে এবং পানি শোধন ও জীবানুনাশক তৈরিতে ব্যবহৃত হবে। এ প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থান হবে। দেশের কাপড় ও কাগজ শিল্পে রাসায়নিক দ্রব্যের চাহিদা পূরণ করা গেলে বছরে ২০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূণর্ অবদান রাখবে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রব্বানী এসময় জানান, এ ফ্যাক্টারির অন্যতম কাঁচামাল ও ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকার এর সহযোগিতা শুরু থেকেই ছিল। কারখানা স্বাভাবিকভাবে উৎপাদনে থাকলে মাসে অন্তত ৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল সরকার পাবে।
প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বিভাগের প্রধান মোঃ রায়হান ফেরদৌস জানান, চীন থেকে আসা ২৫ প্রকৌশলী ও কর্মীর পাশাপাশি দেশীয় বেশ কিছু সংখ্যক প্রকৌশলী গত দুই বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক বাজারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পণ্যের মান ঠিক রাখতে আধুনিক মানের গবেষণাগার নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে আর এন্ড ডি শাখা। চীনা মেশিন ও জাপানি প্রযুক্তির সমন্বয়ে এ কোম্পানিতে যেসব রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন হবে তারমধ্যে আছে কস্টিক সোডা, ব্লিচিং ফাইন, ব্লিচিং পাউডার, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট ও তরলকৃত ক্লোরিন। এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ দেশে প্রথম ব্লিচিং ফাইন তৈরি করছে। দেশ ও বিদেশে এ রাসায়নিক দ্রব্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। শুধুমাত্র ৫০ শতাংশ ব্লিচিং ফাইন রপ্তানি করে বছরে কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে জানান রায়হান।

রায়হান ফেরদৌস আরও জানান, এ কোম্পানিতে প্রতিদিন ব্লিচিং ফাইন ও ব্লিচিং পাউডার তৈরি হবে ৪০ টন করে। এ ছাড়া কস্টিক সোডা উৎপাদন হবে ১০০ টন, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ৩৫ টন, সোডিয়াম হাইড্রোক্লোরাইট ১২ টন ও তরলকৃত ক্লোরিন ১০ টন।

এসআর গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বগুড়া-৬ সদর আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ জানান, বহু বছর ধরেই বগুড়ায় একটি ভারি শিল্পকারখানা তৈরি চেষ্টা করছিল সরকার। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ ১০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয়ে বগুড়া’র শেরপুরে প্রতিষ্ঠা করেছে ওই কোম্পানি।
তিনি বলেন, এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ তৈরিতে সরকারের সবগুলো দফতর, বিশেষ করে বিদ্যুৎ এবং পরিবেশ অধিদফতর আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছে। স্বাভাবিকভাবে উৎপাদনে থাকলে সরকার মাসে অন্তত ৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল পাবে এবং উৎপাদিত মাল দেশের বাহিরে রপ্তানীতে আয় করবে বৈদেশিক মুদ্রা।

