কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: নিকলীতে পারিবারিক কলহের জেরে দুই নারীকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যার ঘাতক শওকত আলীকে (৩৫) গ্রামবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
হত্যাকান্ডের শিকার নারীরা হলো, নিকলী উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের বড়বাংলা গ্রামের শওকত আলীর স্ত্রী আয়শা আক্তার উরফে ইসা (২১) এবং পূর্বপাড়া গ্রামের মোস্তফা মিয়ার স্ত্রী সালমা আক্তার (২৬)।
শওকত আলী দীর্ঘদিন দুবাইয়ে চাকুরি করে সম্প্রতি সে দেশে ফিরে। তার আবারও দুবাই চলে যাওয়ার কথা।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গতকাল শনিবার সকাল ১১টার দিকে শওকত আলী তার গর্ভবতী স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। কিছুক্ষণ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পার্শ্ববর্তী পূর্বপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আয়শা আক্তারের বড় ভাবি সালমাকে হত্যা করে। এ ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনী দেয়। এ সময় সচেতন গ্রামবাসী পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রƒত ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ঘাতক শওকত আলীকে গ্রেফতার করে নিকলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন ভূঞা জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহের জের ধরে দুই নারী হত্যাকান্ডের শিকার হলেন। ঘাতক শওকতকে গ্রেফতার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠনো হবে।
এ নৃশংস ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে এ নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনা ঘটছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

