একাত্তর বাংলাঃ তিন দশকেও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর হয়নি দেশের ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ নিটওয়্যার কারখানা। ২০-৩০ বছরের পুরান পদ্ধতির যন্ত্র ব্যবহারে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। উদ্যক্তারা বলছেন, প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশ্ব বাজারে টিকে থাকতে আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। উদ্যোক্তাদের এমন পরামর্শে শেষ হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও মেশিনারি প্রদর্শনীর এবারের আসর।
খটাখট শব্দে হস্তচালিত নিটওয়্যার মেশিনে বুননের দিন আর নেই। আধুনিক মেশিনে তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের সোয়েটার। পুরান যন্ত্রে যেখানে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩-৪টি সোয়েটার বোনা যেত, সেখানে উন্নত এই মেশিনে তৈরি হচ্ছে ১০-১২টি। এভাবেই প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ৩-৪গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন ক্ষমতা।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশে রপ্তানিমুখী ১১শ’র বেশি নিটওয়্যার কারখানার প্রায় ৯০ ভাগই চলছে ২০-৩০ বছরের পুরান পদ্ধতির মেশিন দিয়ে। এমননকি হাতে-কলমে শেখানো হয় যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে তারাও ব্যবহার করেন পুরান যন্ত্রপাতি। আয়োজক ও দর্শনার্থীরা বলছেন, কেবল নিটওয়্যার নয়, দেশের পুরো টেক্সটাইল শিল্পকেই আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।
আয়োজকদের একজন বলেন, ‘বায়ারের রিকোয়্যারমেন্ট পূর্বে হতো এক লাখ। এখন সেই বায়ারের বাংলাদেশিদের কাছে রিকোয়্যারমেন্ট থাকে ১০ লাখ। দ্যাট মিনস আপনাকে কিন্তু অটোমেটিক যুগে যেতেই হবে।’
কেবল নিটওয়্যার নয়, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গত ৪দিন ধরে উন্নত মানের সুতা-ফেব্রিকসহ পুরো টেক্সটাইল খাতের বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরির অত্যাধুনিক সব যন্ত্র প্রদর্শন করেছে ৩৬ টি দেশের প্রায় ১২শর মতো প্রতিষ্ঠান। তবে প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিলো হাতে-গোনা ৮-১০ টি। উদ্যোক্তারা জানান, সরকারের নীতি সহায়তা পেলে তৈরি পোশাকের মতো ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা মেশিন তৈরির স্বপ্নও রূপ নেবে বাস্তবে।
মেলায় অংশগ্রহণকারীদের একজন বলেন, ‘যেহেতু চায়নাতে এখন লেবার কস্ট বেশি, আমরা আশাবাদী যে অতি শিগগিরই দুই-চার-দশটা ফ্যাক্টরি বাংলাদেশে হবে।’
জায়গা স্বল্পতার কারণে আগামী বছর থেকে দেশের বৃহৎ এ প্রদর্শনী রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেশন সিটি বসুন্ধরাতে আয়োজন করা হবে বলেও জানানো হয়।

