সুমন ভৌমিকঃ বেশ কিছুদিন যাবৎ ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থা’র অফিসে নগরীর নিষিদ্ধপল্লীর ভিতরে অবৈধ চুলাই মদ বিক্রির বিষয়ে অভিযোগ আসতে থাকে।
অভিযোগকারীরা ডিবি অফিসে জানায়, নগরীর নিষিদ্ধপল্লীর ভিতরে ৪০-৪৫ টা ঘরে অবৈধ চুলাই মদ বিক্রি করে যাচ্ছে। অবৈধ চুলাই মদ বিক্রির কারনে যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যুব সমাজে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। সেই দিকে দৃষ্টি দিয়ে ডিবির ওসি সহিদুল ইসলাম (পিপিএম) তার টিমকে নির্দেশ দেন-অবৈধ চুলাই মদ উদ্ধার করতে নিষিদ্ধপল্লীর ভিতরে অভিযান পরিচালনা করার জন্য।
ডিবির ওসি সহিদুল ইসলাম এর নির্দেশ পেয়ে ডিবির চৌকস টিমের সদস্য এসআই মোহাম্মদ আশরাফুল আলম সংগীয় অফিসার ফোর্স ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে অভিযান পরিচালনা করে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন নগরীর রমেশ সেন রোডস্থ পতিতাপল্লীর মোঃ হিরু মিয়ার চারতলা বিশিষ্ট বাড়ীর নিচ তলার ভাড়াটিয়া মাদক ব্যবসায়ী মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও মাদক ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামের দক্ষিণ দোয়ারী ঘরের ভিতরের রুম থেকে ২০০ লিটার চুলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৪৩) ও জহুরুল ইসলাম (৪৯) কে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি ওসি জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক কারবারির সাথে জড়িত এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৪৩) এর বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা রয়েছে।
উদ্ধারকৃত ২০০ লিটার চুলাই মদ উদ্ধারের বিষয়ে গ্রেফতারকৃত ২ জনের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে গত ৫ আগস্টের পর পুলিশের ভূমিকা কার্যত ভাটা পড়ে যায়। পুলিশের মাঝে নিস্তব্ধতা বিরাজ করে। আর এই সময়ে ডিবি পুলিশের একটি সফল অভিযান নগরবাসীর মনে পুলিশের প্রতি নতুন করে আস্থার সঞ্চার ঘটেছে। নগরবাসী মনে করেন, পুলিশের মাঝে কর্মদক্ষতা ফিরে আসলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে এবং নিষিদ্ধপল্লীর ভিতরে মাদক উদ্ধারে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

