ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ঈশ্বরগঞ্জে দোকানে বসে সিডি দেখা নিয়ে দুই কিশোরের জগড়াকে কেন্দ্র করে দিনদুপুরে বাড়ি-ঘরে হামলা গরুছাগল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এঘটনায় এক কিশোর আহত হয়েছে।
বুধবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শালিস দরবার করে গরু ফেরত অথবা তার মূল্য ফেরত দেওয়ার জন্যে প্রতিবেদন প্রদান করলেও তা আমলে নেয়নি লুটপাট কারীরা।
জানা যায়, উপজেলা বড়ইবাড়ি কাওরান বাজারের আসাদুলের চায়ের দোকানে সিডি দেখাকে কেন্দ্র করে দত্তগ্রাম গ্রামের হাসেম উদ্দিনের ছেলে হৃদয় (১৫) ও বড়ইবাড়ি গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে ডালিম (১৫) এর মধ্যে জগড়া হয়।
এই জগড়ার ৪ দিনপর ডালিম হৃদয়কে ক্ষুর দিয়ে হাত কেটে দেয়। হাত কাটার ৪/৫ দিনপর স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আমিনের নির্দেশে আহতের পিতা হাসেম উদ্দিনের নেতৃত্বে লোকজন নিয়ে নূরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরে রক্ষিত আসবাবপত্র ভাংচুর করে। ৩টি বিদেশী জাতের গরু নিয়ে যায়।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আহতের চিকিৎসার খোঁজ খবর না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করে গরু নিয়ে যায় হাসেম উদ্দিন। পরে গরু গুলো ইউপি সদস্য নূরুল আমিনে বাড়িতে রাখা হয়।
এ নিয়ে শালিস দরবার হলেও ইউপি সদস্য গরু গুলো আর ফেরত দেয়নি। গরু গুলো ফেরত দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ শালিসের মাধ্যমে দাম নিধার্রণ করে প্রতিবেদন প্রদান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে নির্দ্দেশ দেন নূরুল ইসলামকে।
নূরুল ইসলামের প্রতিবেশী ইসলাম উদ্দিনের স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৪০) বলেন, হৃদয় আহত হওয়ার ৩/৪ দিনপর হাসেম উদ্দিনের নেতৃত্বে ফারুক, উজ্জ্বল রা গরু গুলো নিয়ে যায়। পরে গরুগুলো নূরুল আমিন মেম্বারের বাড়িতে রাখা হয়।
আসন আলী (৭০) জানান, হাসেম উদ্দিনের সাথে ৫০/৬০ জন লোক এসে হামলা করে এবং দিন-দুপুরে গরু গুলো নিয়ে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরুল আমিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাড়ি ঘরে হামলা করার বিষয়ে আমি জানি না। ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। গরুগুলো নিয়ে গেছে এটা সত্য। তবে গরুগুলো আমার বাড়িতে ছিলো এটা ঠিক নয়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ বলেন, বাড়ি ঘরে লুটপাট করে গরু নিয়ে গেছে এটা ঠিক। তাই হাসেম উদ্দিনকে গরুগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য জানিয়েছি কিন্তু ফেরত দেয়নি। তাই নূরুল ইসলামকে প্রতিবেদনের মাধ্যমে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আহাম্মদ কবীর হোসেন বলেন, আহতের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। তবে লুটপাটের ঘটনার কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

