ঝালকাঠি, বরিশাল প্রতিনিধি : ঝালকাঠীর কাঠালিয়ায় চেচরী রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নজীরবিহীন দূর্নীতি ও জালজালিয়াতীর মাধ্যমে একজন সহকারি শিক্ষক নিয়োগের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো. সরোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে বানিজ্যিক ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এ শিক্ষকের এমপিও তালিকা ভূক্ত হওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারী নীতিমালা পদদলিত করে আট লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে আমুয়ার বাঁশবুনিয়া গ্রামের ননী গোপালের নিয়োগের বিষয়টি তদন্তের জন্য শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকরা দাবী জানিয়েছে।
অনুসন্ধানকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানায়, ননী গোপালকে কে বা কারা নিয়োগ দিয়েছে, কি ভাবে বা কতোদিন পূর্বে নিয়োগ দিয়েছে তার কোন কিছুই আমার জানা নেই। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসাবে আমি আজ পর্যন্ত তাকে কখনো স্কুলে দেখিনি। তবে খোজ নিয়ে জানতে পেরেছি আমার সাক্ষর জাল করে কথিত এ শিক্ষককে নিয়োগ ও এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ২০০৯ সাল থেকে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান মেয়াদ কালের ৩০ শে জানুয়ারি ২০১৭ইং তারিখ পর্যন্ত ননী গোপাল নামে কোন শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়নি। তবে এ সময় কালে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রতন কুমার বসুর মৃত্যুতে একটি কোঠাটি খালি হয়েছিল। শুনেছি সহকারি প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন (সোরাপ) সেই পদে একজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।
২০১৭ সালের এপ্রিলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেহেদী বলেন, ননী গোপাল নামে এক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত কোন কাগজ পত্র, রেজুলেশন বা শিক্ষক হাজিরা খাতায় আজ পযর্ন্ত তার কোন হাজিরা স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। তাছাড়া তাকে ১০ ডিসেম্বর ২০১৬ ইং া নিয়োগ, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ যোগদান দেখানো হলেও গত বকে বছরে একদিনও তাকে বিদ্যালয়ে দেখা যায়নি। অথচ বিস্ময়কর ভাবে সহকারি শিক্ষক ননী গোপালের নাম এমপিও তালিকায় এসেছে।
এব্যাপারে বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারি শিক্ষক জানায়, অত্র বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধ্ান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন (সোরাফ) ৮ থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা উৎকোচের বিনিমনে প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের স্বাক্ষর জালজালিয়াতির মাধ্যমে ননী গোপাল কে অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ ও যোগদান দেখিয়ে এমপিও তালিকা ভূক্ত করিয়েছে। এ শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করলেই সরোয়ার হোসেন সোরাফের সকল অপকর্ম ও দূর্নীতির চিত্র প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হবে বলে তারা দাবী করেন।
এ বিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন মন্নান বলেন ননী গোপাল নামের কোন শিক্ষক আমাদের বিদ্যালয়ে আছে বলে আমার জানা নেই। বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্র মো. কাইয়ুম জমাদ্দারসহ কয়েক শিক্ষার্থী জানায় ননী গোপাল নামে আমাদের কোন শিক্ষক নেই বা এই নামে কোন শিক্ষককে আমরা কোন দিন দেখিনি।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন ফরাজি জানায়, শিক্ষক ননী গোপালের নিয়োগ সম্পর্কে পূর্বে আমি কিছু জানিনা। তবে তার নিয়োগ সম্পর্কে দূর্নীতি ও জালিয়াতীর অভিযোগ জানতে পেরে রেজুলেশন খাতা ও ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষক হাজিরা খাতা জব্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।#
ঝালকাঠীর শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য
Date:

