একাত্তর বাংলাঃ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে সরানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নিতে আজ বৈঠকে বসছেন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা। এএনসি’র ওই বৈঠক ঘিরে দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তার দলের তৃণমূল থেকে উচ্চ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাই চান জুমার প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পক্ষে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জুমার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার পদত্যাগের দাবিতে একাট্টা সাধারণ মানুষ ও তার দলীয় কর্মীরা। তবে বিভিন্ন মহল থেকে আসা পদত্যাগের অনুরোধ এখনও প্রত্যাখ্যান করে আসছেন তিনি।
এ অবস্থায় সোমবার ক্ষমতাসীন দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এ.এন.সি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠকে বসছে। ক্ষমতা ছাড়ার জন্য প্রেসিডেন্ট জুমার ওপর চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করাই বৈঠকটির এজেন্ডা বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। এতে দলের সিদ্ধান্ত প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত নির্বাহীরা একমত হলে চলতি সপ্তাহেই প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে গত বুধবার জুমার ভবিষ্যত নির্ধারণ প্রশ্নে একই রকম বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়। রোববার কেপটাইনে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মশতবার্ষিকীর এক জনসভায় যোগ দিয়ে এ.এন.সির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা জোর দিয়েছেন পরিস্থিতির আশু সমাধান খোঁজার বিষয়ে।
এএনসি প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, ‘মানুষ চায় আমরা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক করি। তাই দ্রুতই প্রেসিডেন্ট ইস্যুর একটা সুরাহা হওয়া দরকার। বৈঠকে এই বিষয়বস্তুতেই কথা বলবো। আশাপ্রকাশ করতেই পারি, দক্ষিণ আফ্রিকা আর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকবে না। মহান নেতা ম্যান্ডেলা সারাজীবন যে জন্য সংগ্রাম করে গেছেন তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’
এর আগে রামাফোসা জানান, জুমার সঙ্গে তার গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। ফলে জুমা স্বেচ্ছায় পদ ছাড়বেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। যদিও এরপর জুমা আর কোনো বক্তব্য দেননি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বারবার আহ্বান জানানোর পরেও সাড়া না দেয়াটা তার ‘ভবিষ্যতের’ জন্যই শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
স্থানীয় সাংবাদিক তাশিপো ইকানিং বলেন, ‘দলীয় কর্মী এবং সাধারণ মানুষের চাওয়া উপেক্ষা করে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। এছাড়া এখনো ১৫ মাস বাকি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের, এমন সময় পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অনেক অভিযোগ।’
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ শাসনের অবসানের পর থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সমালোচিত প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা।

