নিজস্ব প্রতিবেদক
এক মাসে এ যাবৎ বাংলাদেশে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় হয়েছে জানুয়ারিতে। আগের সব রেকর্ড ভেঙে গত মাসে মোট রপ্তানি ৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি হয়েছিল ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। আর সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসের আগে একক মাস হিসেবে দেশে সর্বোচ্চ রপ্তানির রেকর্ড ছিল গত ডিসেম্বরে। তখন মোট রপ্তানি ৫ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের।
গতকাল রোববার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত রপ্তানির হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে রপ্তানি হয়েছে ৫৭২ কোটি ৪৩ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য। গত বছরের জানুয়ারিতে রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ৫১৪ কোটি ডলারের পণ্য। সেই হিসাবে গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে রপ্তানি বেড়েছে ৫৮ কোটি ডলারের। শতকরা হিসাবে বছরের ব্যবধানে জানুয়ারিতে ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
তবে রেকর্ড আয় হওয়া সত্ত্বেও জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হয়নি। এ মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৭৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই লক্ষ্যমাত্রা থেকে শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ কম রপ্তানি আয় হয়েছে।
ইপিবি জানায়, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মাসে তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং চামড়াসহ ২৭ ধরনের পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ৩৩ হাজার ২৬৪ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি।
দেশের রপ্তানি আয়ের বড় খাত তৈরি পোশাকে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ সাত মাসে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৮৩৬ কোটি ডলারের। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে গত সাত মাসে রপ্তানি ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ কম ছিল। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ২ হাজার ৭৪২ কোটি ডলারের। মূলত পোশাকের রপ্তানির ওপর ভর করে সার্বিক রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ের মধ্যে ১৬ হাজার ১৭৯ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার এসেছে নিটওয়্যার রপ্তানি থেকে, যা ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ১২ হাজার ১৮৩ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার এসেছে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ২ দশমিক ২০ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ও হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি কমেছে। হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি আয় ৩৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫৪ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলারে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ কম।
এ ছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬২৮ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলারে, যা গত অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে ছিল ৭৩৩ দশমিক ০৯ মিলিয়ন ডলার। তবে জুলাই থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৫৭২ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে মোট রপ্তানি ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে যা ৩৩ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের হয়েছে। অর্থাৎ, রপ্তানিতে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জত হয়েছে।

