সুমন ভৌমিকঃ কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভাস্কর্য মৌলবাদীদের হামলার প্রতিবাদে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৯ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের পর ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ মশাল মিছিল বের করে। উক্ত মশাল মিছিলে অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। এছাড়া অংশগ্রহন করেন ময়মনসিংহ মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক গোলাম ফেরদৌস জিলু, এডঃ আব্দুর রহমান আল হোসাইন তাজ, শাহজাহান পারভেজ, সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডঃ তাজুল ইসলাম খোকন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সালেমা খাতুন সিদ্দিকা জেসমিন, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের আহবায়ক এডঃ আজহারুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার, মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রাসেল পাঠান, শহর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রাজ্জাক ঊষাণসহ প্রমুখ।

উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম। তিনি মশাল প্রজ্জল্লিত করে মশাল মিছিলের উদ্ভোধন করেন। এছাড়া নগরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে মশাল মিছিল সম্পন্ন করে প্রতিবাদ করার আহবান জানান তিনি। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু।

সমাবেশ এর মধ্যমনি সংগ্রামী জননেতা মোহিত উর রহমান শান্ত প্রতিবাদী কন্ঠে বলেন, ফজলুল করিম সাহেব আপনি যে ভাষায় কথা বলেন সেটি মোমিনের ভাষা নয়। ছোট ছোট মাসুম ও এতিম বাচ্চাদের রাস্তায় নামিয়ে সরকারের মুখোমুখি করে দিয়ে জাহান্নামে যাওয়া ঠেকান। মামুনুল হক সাহেব আপনার ২ সন্তানকে আপনি কুরআনের হাফেজ বানিয়েছেন, তাদেরকে কেন সরকারের মুখে ঠেলে দেন না। কেন হাজার হাজার গরীব মানুষের সন্তানকে সরকারের মুখে ঠেলে দেন, পুলিশের লাঠির মুখে ঠেলে দেন।

তিনি প্রতিবাদী কন্ঠে আরো বলেন, আমরা যারা রাজনীতে করি, তাদের পরিবারের অনেকেই রাজনীতি করেছেন। আমার পিতা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবং তার পরিবারের সকলেই রাজনীতি করেন। আমার সভাপতি এহতেশামুল আলমের স্ত্রী ও সন্তান রাজনীতি করেন। আমার পিতা যখন রাজনীতির মাঠে গিয়েছেন, তার ভাইদেরকে সাথে করে নিয়ে গিয়েছেন। এহতেশামুল আলম যখন রাজনীতির মাঠে থাকেন, তার সন্তানও তার সাথে থাকেন। আমি যখন মাঠে থাকি, আমার ভাইয়েরা মাঠে থাকে। আর যারা আমার ভাইয়ের সমতুল্য তারাও আমার সাথে থাকে। মামুনুল হক সাহেব আপনি আপনার সন্তানকে মাঠে নামান না, আপনি আপনার সন্তানদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন না। এতিম বাচ্চাদের রাস্তায় নামিয়ে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে আপনি জাহান্নাম ঠেকান।

মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, মুসলিম জাহানের একটি শিয়া প্রধান দেশ ইরান নবীজিকে নিয়ে একটি সিনেমা বানিয়েছিল। চলচ্চিত্রটির নাম “দ্যা মেসেঞ্জার” যে সিনেমা দেখে সমগ্র বিশ্বের মুসলিমরা অনুপ্রাণিত হয়। সেই সিনেমাটিতে বিভিন্ন সাহাবীগণকে দেখানো হয়েছে কিন্তু আমাদের নবীজীর অবয়ব, মুখভঙ্গী কিংবা কোথাও নবীজির ছায়া পর্যন্ত দেখানো হয় নাই। সেখানে বুঝানো হয়েছে সকল কিছু নবীজিকে আবর্ত করে ঘটেছে।

এসময় প্রতিবাদী কন্ঠে শান্ত বলেন, মাওলানা মামুনুল হক সাহেব, ইরানের মতো শিয়া প্রধান দেশ যেখানে নবীজির ছায়া পর্যন্ত দেখায়নি আর এখানে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবার শুনলাম এবং দেখলাম আপনি নবীজির মতো অঙ্গভঙ্গী করে দেখিয়েছেন। আমি একজন মুসলমান হিসেবে বিশ্বাস করি সেটা আপনার উচিত হয়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা পেয়েছে। এখানে মুসলমানের রক্ত আছে, হিন্দুর রক্ত আছে, বৌদ্ধের রক্ত আছে, খ্রিস্টানের রক্ত আছে। বাংলাদেশ একটি সংবিধান অনুযায়ী চলে। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে সে সংবিধান রচিত হয়েছে। একাত্তরের সংবিধান আমাদের সকলকে সমান অধিকার দিয়েছে। এই দেশে মুসলিম থাকবে, হিন্দু থাকবে, বৌদ্ধ থাকবে, খ্রিস্টান থাকবে। কারও কোন অধিকার নেই একজনকে তার ধর্ম পালনে বাঁধা দেয়ার, তার ধর্ম পালন থেকে বঞ্চিত করার। পবিত্র কোরআনেও আছে, “তুমি তোমার ধর্ম পালন করবে-আমি আমার ধর্ম পালন করবো”।

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর কুচক্রিদের মনে হলো ভাস্কর্য তৈরি করা হারাম। জিয়াউর রহমানের আমলে ভাস্কর্য তৈরি হয়েছে, এরশাদ-বিএনপি আমলে ভাস্কর্য তৈরি হয়েছে। গত আওয়ামী লীগের আমলে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য তৈরি হয়েছে। তখনতো কোন বাঁধা দেননি।

এসময় তিনি বলেন, ৭ কোটি মানুষের দোয়া নিয়ে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। ৫০ বছর পরেও প্রত্যেকদিন অন্তত ৫ কোটি মানুষ বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়া করেছেন, আর আপনার বলছেন দোযখে যাবে! মাওলানা ফজলুল করিম ও মাওলানা মামুনুল হক, দোযখে যাবে আপনারা বলার কে?

এসময় তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নয়, জামাত-শিবির নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে ও তাদের হাজার হাজার কোটি টাকা এবং বিএনপি ও পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফালানোর জন্য তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন।

মোহিত উর রহমান শান্ত দুঃখ করে বলেন, ভাস্কর্য নিয়ে এতোদিন কোন কথা হয়নি কিন্তু ৫০ বছর পর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে দেয়া হলো! “আমাদের মরে যাওয়া উচিত”। আমরা যারা শেখ হাসিনার কর্মী আমাদের মৃত্যু হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজের মুখ থেকে যদি একটি শব্দ উচ্চারণ করেন, বিএনপি-জামাতের বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দলের দুর্দিনের কর্মী ও তরুণ প্রজন্ম দেশে কুরুক্ষেত্র বাঁধিয়ে দিবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
সমাবেশে বক্তাদের বক্তব্যের পর কৃষ্ণচূড়া থেকে মশাল মিছিলটি বের হয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। মশাল মিছিলে প্রতিবাদী স্লোগানে মুজিব আদর্শের সৈনিকেরা নগর কাঁপিয়ে তুলে বলতে থাকে, একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার, “শেখ মুজিবের বাংলায় রাজাকারদের ঠাঁই নাই”।
মশাল মিছিল শেষে টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গনে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত’র উপস্থিতিতে মহানগর আওয়ামী লীগে সভাপতি এহতেশামুল আলম সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

