একাত্তর বাংলাঃ আবারো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন।
গতকাল শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে গণশুনানির সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
শুনানির বিচারক হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ড. নুরুল আমিন বেপারী, অ্যাড. ড. মহসিন রশীদ, সাবেক বিচারপতি আ ক ম আনিসুর রহমান খান, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।
ড. কামাল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি সকলের আন্তরিক দাবি। তার মুক্তি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত দাবি। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি হওয়া উচিত। এই অনুষ্ঠান থেকে দাবিটা যাওয়া দরকার। এটা দুঃখজনক যে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর এই ধরনের দাবি আমাদের করতে হচ্ছে।’
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটাকে নির্বাচন বলা যায় না, নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। আমরা বুঝতে পেরেছি এটা কোনো নির্বাচন হয়নি।’
এ সময় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা মারা গেলে উত্তরসূরিরা আপনাদের নিয়ে লজ্জা পাবে। আপনারা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন কী করেছেন? আপনারা সংবিধান অমান্য করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে আনতে হবে। যেন স্বৈরাচারকে সরাতে পারি এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শুরু হয়ে বিকেল প্রায় সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে এই গণশুনানি। এ সময় সারা দেশ থেকে আসা ৪৩ জন প্রার্থী নির্বাচনের আগে ও পরের অবস্থা তুলে ধরেন।
গণশুনানির শুরুতে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। শুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন, কৃষক-শ্রমিক লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং সারা দেশ থেকে আসা জোটটির প্রার্থীরা।

