বাবু চৌধুরীঃ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং উত্তর জেলা বিএনপি উদ্দ্যেগে আজ সকাল ১১ ঘটিকার সময়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারক লিপি পেশ করে।
এ সময় দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযাগী সংগঠনের নেতৃত্ব স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারক লিপি প্রদানের পূর্বে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় হতে ব্যাপক সংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এসে উপস্থিত হয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
এর আগে নগরীর ১ নং হরি-কিশোর রায় রোডের সম্মুখে বিএনপির নেতৃবৃন্দ পুলিশী বাঁধার মুখে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ বাক-বিতন্ডার পর শুধু সিনিয়র ও নেতৃত্ব স্থানীয়দের যাওয়ার অনুমতি পায়। কিন্তু আগে থেকেই দলীয় নেতা-কর্মী আদালত চত্বর তথা ডিসি অফিস চত্বরে অপেক্ষমান ছিলো। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের সাথে তারাও ডিসি অফিস সম্মুখেই স্মারক লিপি প্রদান দলীয় কর্মসূচীতে যোগ দেয়।
সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ সকালে বিএনপির নেতা-কর্মী দলীয় অফিসে একত্রিত হয়। স্মারক লিপি প্রদানের নিমিত্তে ডিসি অফিস বরাবরে রওনা দেওয়ার মুহূর্তে পথিমধ্যে পুলিশী বাঁধা উপেক্ষা করে শত শত নেতা-কর্মী জনবান্ধব এই কর্মসূচীতে যোগ দেয়।
নিম্নে ময়মনসিংহ ডিসি অফিস বরাবরে স্মারক লিপির হুবুহু তুলে ধরা হলো:-

স্মারক লিপি
বারবর,
জেলা প্রশাসক
ময়মনসিংহ।
জনাব,
বোরো ধানের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোস দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত ধানের মূল্য উৎপাদন খরচের অনেকগুন কম হওয়ায় কৃষকরা হাহাকার করছে। প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে দুই হাজার টাকা। ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট ও নেত্রকোনা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছে, পাকা ধানে মই দিচ্ছে, সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতবিাদ করছে। সরকার প্রতিমন ধান কেনার জন্য ১ হাজার ৪০ টাকা প্রদান করলেও কৃষকের হাতে যাচ্ছে ৪শো থেকে ৫শো টাকা। বাকী টাকা যাচ্ছে সরকারের আনুকূল্য পাওয়া মধ্যেস্বত্বভোগীদের পকেটে। এ নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যাথা নেই। ধানের দাম কমার জন্য উদ্ভুত সংকটে সরকার উদাসীন। এ বিষয়ে তাদের কোন দায় নেই বলে কৃষিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণেই কৃষকরা উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ কৃষকরাই বাংলাদেশের আত্মা ও দেশের প্রান। কৃষকদের রক্ষা করতে না পারলে দেশে দূর্যোগ নেমে আসবে। তারা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশে দূর্ভিক্ষ নেমে আসবে, ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মরবে। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা, মধ্যস্থত¦ভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ব বন্ধ করার জন্য সরকারকে আপনার মাধ্যেমে আহবান জানাচ্ছি।
পাশাপশি জাতীয় মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরী সহ ৯ দফার দাবীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়াত্ত বিভিন্ন পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। দেশের ২৬টি পাটকলে একযোগে লাগাতার ধর্মঘট শুরু হলেও সরকার তাদের যৌক্তিক দাবী মেনে নিচ্ছে না। ১০ থেকে ১৫ সপ্তাহ মজরী না পেয়ে শ্রমিকরা অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ২০১৫ সালের মজুরী কমিশন রোয়েদাদ এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। অথচ রমজান মাস শুরু হয়েছে। এ মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পন্য কেনার সামর্থ তাদের নেই। কর্মচারীদের চার মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমজীবি মানুষের স্বার্থের প্রতি সরকারের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। বরং তাদের উপর শোষনের মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে। শ্রমিকরা পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন করছে বিনিময়ে তারা মজুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে বৈষম্য ও বঞ্চনা প্রকট আকার ধারন করেছে। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার পক্ষ থেকে পাটকল শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবী গুলো সরকারকে মেনে নেওয়ার জন্য আপনার মাধ্যেমে আহবান জানাচ্চি।
স্মারক লিপি প্রদানের পূর্বে ডিসি অফিস চত্বরে নেতৃবৃন্দ এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে বিএনপি। উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা উত্তর শাখা, দক্ষিণ শাখা ও নগর শাখা’র নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম শফিক এর সভাপতিত্বে ও ময়মনসিংহ সদর ৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক ছাত্রদল নেতা ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দের সঞ্চলনায় উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ্ প্রিন্স, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক সাবেক ছাত্রদল নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদার, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক কাজী রানা, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান’সহ বিভিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।

