সুমন ভৌমিক: ময়মনসিংহ নগরীর প্রাণকেন্দ্র ব্যস্ততম বানিজ্যিক এলাকা গাঙ্গিনারপাড় রোড ও স্টেশন রোড। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে প্রতিদিন বসতেছিল অবৈধ দখলদারেরা। সেসময় চলচলে বাঁধাগ্রস্থ হয় বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারীর। তৈরীও হয় তীব্র যানজট। আগের ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জগণ মাঝে মাঝে হকার মুক্ত ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করলেও তা ছিল ক্ষণস্থায়ী। নগরবাসী সেসময় বলতো ডিমান্ড বাড়ানোর পাঁয়তারা!
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী স্কুলে আসা-যাওয়া করে। জনগণ মার্কেটে পণ্য কিনতে বেশি যাতায়াত করে এই সড়কে। মসজিদে নামাজ আদায় করার জন্য মুসল্লিারা এই সড়কে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু যখনই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে অবৈধ দখলদারেরা বসে পড়ায় শত শত শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়। মার্কেটের ক্রেতাদের চলাফেরায় সমস্যায় পড়তে হয় এবং মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ১নং ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ ওয়াজেদ মিয়ার আমলে গাঙ্গিনারপাড় সড়ক এলাকার ফুটপাতে চোর-পুলিশ খেলা চলাকালে এক সাংবাদিকের ২৬ হাজার টাকার মোবাইল ভাঙ্গার রেকর্ড হয়েছিল। সেসময় ১নং পুলিশ ফাঁড়ির নির্দেশে নগরীর প্রাণকেন্দ্র ব্যস্ততম বানিজ্যিক এলাকা গাঙ্গিনারপাড় রোড ও স্টেশন রোডে ফুটপাতে হকার বসতো বলে প্রচার ছিল। কিন্তু বর্তমানে ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে দীর্ঘদিন ফুটপাত মুক্ত থাকায় সেই অপবাদ নগরবাসী আর বলে না।

সঞ্জীব নামে এক পথচারীকে গাঙ্গিনারপাড় রোড ও স্টেশন রোডে হকার মুক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “কী তামশা-সব ফকফকা” ও-মানিক কি বাত্তি লাগাইলি!
পথচারীকে প্রশ্ন করলাম মানেটা কি? তিনি উত্তরে জানালেন, ভাই গাঙ্গিনারপাড় রোড ও স্টেশন রোড দিয়ে আমি প্রতিদিন যাতায়াত করি। কখনো মাঝে মাঝে দেখেছি এই সড়কে এক ঘন্টা বা দু’ঘন্টা হকারমুক্ত থাকে। ১নং পুলিশ ফাঁড়িতে নতুন এক ইনচার্জ যোগদান করায় গাঙ্গিনারপাড় রোড ও স্টেশন রোড সম্পূর্ণ হকার মুক্ত। এই সড়কে অবৈধ দখলদারদের আর দেখা যায় না। ছোটবেলায় বিটিভিতে ফিলিপস্ বাতির বিজ্ঞাপনে দেখেছি-“কী তামশা-সব ফকফকা” ও-মানিক কি বাত্তি লাগাইলি! ফকফকা বুঝেন না-একদম পরিস্কার, সড়ক একদম পরিস্কার। এসময় প্রতিবেদক পথচারীকে বললো ইনচার্জের বাড়ি মানিকগঞ্জ। তিনি মুচকী হেসে বললেন, ভালই হলো-আমার ডাইলকের সাথে মিলে গেছে।
গাঙ্গিনারপাড় রোডের এক ব্যবসায়ী নেতা প্রতিবেদককে জানান, গাঙ্গিনারপাড় রোড ও স্টেশন রোড হকাররা দখলে নেয়ায় বিভিন্ন মার্কেটের ক্রেতাগণ ও পথচারীর চলাচলে বাঁধাগ্রস্থ হয়ে ভয়াবহ অবস্থা ধারন করেছিল। এখন সেই পূর্বের অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে। ফাঁড়ির নতুন ইনচার্জ শহীদুল ভাই খুবই ভালো মানুষ। উনি প্রশংসার পাওয়ার যোগ্য। একমাত্র উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে-দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করার। আমারা দোকান মালিক সমিতি’র নেতৃবৃন্দ শহীদুল ভাইকে সাদুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। শহীদুল ভাই আমাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, আমি এখানে ইনচার্জ হিসাবে থাকি বা না থাকি-এখানে যেই ইনচার্জ হিসাবে থাকবে ভবিষ্যতেও এধারা বলবত থাকবে। এসময় ব্যবসায়ী নেতা মজা করে বলেন, এই সড়কের ফুটপাত মুক্ত হওয়ায়-“সড়কটি যেন ফুটবল মাঠে রূপান্তরিত হয়েছে”। তবে সড়কে ফুটপাত মুক্ত পরিবেশ কতদিন টিকে থাকে সেটাই দেখার বিষয়।
প্রতিবেদক ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল ইসলামকে গাঙ্গিনারপাড় রোড ও স্টেশন রোডে হকার মুক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের সুযোগ্য রেঞ্জ ডিআইজি শাহ আবিদ হোসেন স্যারের দিকনির্দেশনা ও সুযোগ্য পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা স্যারে নির্দেশনা ছিল গাঙ্গিনারপাড় রোড ও স্টেশন রোডে ফুটপাত মুক্ত পরিবেশ। আমি স্যারদের দিকনির্দেশনা সঠিক ভাবে পালন করেছি মাত্র, এছাড়া আর কিছুই না। প্রতিবেদক ইনচার্জকে বললেন, দোকান মালিক সমিতি’র নেতৃবৃন্দ আপনাকে সাদুবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ইনচার্জ বলেন, নগরীর ব্যস্ততম বানিজ্যিক এলাকা গাঙ্গিনারপাড় রোড ও স্টেশন রোড। এ এলাকার সড়কে ও ফুটপাতে প্রতিদিন বসেছিল অবৈধ দখলদারেরা। এটা ছিল দীর্ঘদিনের সমস্যা। আমি ১নং পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদান করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে পেরেছি বলেই দোকান মালিক সমিতি’র নেতৃবৃন্দের প্রশংসা পেয়েছি। তবে এই প্রশংসার দাবিদার আমার ফাঁড়ির সকল পুলিশ সদস্যদের।

