একাত্তর বাংলাঃ কারারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন উপায়ে দেশের কারাগারগুলোতে মাদক ঢুকে পড়ছে বলে স্বীকার করলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। মাদক সেবন ও লেনদেনের সঙ্গে বর্তমানে ৩৬ শতাংশ কয়েদি জড়িত বলেও জানান তিনি।
সকালে কারা সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে কারা অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিনি। এদিকে কারা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারাগারে মাদকের ব্যবহার বন্ধ করতে না পারলে কারাগারের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
নিরাপদে রেখে আলোর পথ দেখাতেই চার দেয়ালের মাঝে বন্দি হিসেবে রাখা হয় সমাজের নানা ধরনের অপরাধীদের। যেখানে সবাইকে বন্দী জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়মের মধ্যে থেকে চলতে হয়।
তবে এতো বিধি নিষেধ ও নিরপত্তার মধ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারের ভিতরে অনেক বন্দি নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে কারা রক্ষীদের নিষ্ঠা ও দক্ষতা নিয়ে।
যদিও রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন মাদকের কথা স্বীকার করে বলেছেন, জনবল সংকটের কারণে মাদক বন্ধ করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘৩৫.৯৭ বন্দী হলো মাদক সংক্রান্ত। ঢাকায় ৩ হাজার বন্দী সবসময় চেষ্টা করতে থাকে মাদক প্রবেশের জন্য, আর ১০০ জন কারারক্ষী প্রতিরোধ করার জন্য।’
যদিও অভিযোগ আছে, বন্দিদের খাওয়ার জন্য যেসব খাবার কারাগারে ঢোকানো হয়, তার মধ্যেই অনেক সময় মাদক থাকে। তবে কারা মহাপরিদর্শকের দাবি, বন্দিরাই অভিনব পদ্ধতিতে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মাদক নিয়ে কারাগারে প্রবেশ করে।
তিনি বলেন, ‘৩৫০ ইয়াবা পলিথিনের পোটলার মধ্যে সে খেয়ে আসতে পারছে। লুঙ্গির সেলাইয়ের মধ্যে, শার্টের কলারের মধ্যে লুকিয়ে আনছে। এই যে পদ্ধতিগুলো তারা অবলম্বন করছে, এগুলো অভিনব। শুকনা মরিচের ভেতরে , পেঁয়াজের ভেতরে, সাবানের ভেতরে, টুথপেস্টের ভেতরে মাদক আনছে। এরজন্য হিউম্যান বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার ফলপ্রসুভাবে আরও হোক। হয়ে গেলে হয়তো এগুলো আরও কমবে।’
কারা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারাগারকে মাদকমুক্ত করতে কর্তৃপক্ষকেই আরো বেশী সচেষ্ট হতে হবে।
প্রিজনের সাবেক ডিআইজি মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, ‘কারা কর্তুপক্ষের আরও কঠোর হতে হবে। তাদের জানতে হবে যে কোন কোন অফিসার, কোন কোন কারারক্ষী ভালো, তাদেরকে এইসমস্ত ক্ষেত্রে ডিউটি দিতে হবে। কারা কর্তুপক্ষ যদি বলে যে তারা জানে না, তাহলে সেটা ঠিক হবে না। যন্ত্রের যত ব্যবহার করতে হবে, তার চেয়ে বেশি ব্যবহার করতে হবে মানুষকে। একটা কারারক্ষী ৮-১০ লাখ টাকা দিয়ে যখন চাকরি পায়, তখন কিন্তু তার ওই মানবিক গুণাবলীগুলো আর থাকে না। তারা তখন তাদের সেই টাকা তোলার জন্য এই কাজগুলো করে।’
কারা অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, কারাগারে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত এক বছরে ২০ জনেরও বেশী কারা কর্মচারী বিরুদ্ধে চাকুরী থেকে বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।সূত্রঃসময় টিভি।

