একাত্তর বাংলাঃ রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বেশকিছু রাস্তা ও ব্রিজের কাজ শেষ না করে পালিয়ে গেছে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, কাজের অগ্রগতির তুলনায় ঠিকাদাররা বেশি বিল নিয়ে উধাও হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছ।
৩৫টি গ্রুপে সড়ক প্রশস্থকরণ-সংস্কার, ড্রেন ও ফুটপাথ নির্মাণের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়েছে দু’ থেকে চার বছর আগে। ৬টি চালু ব্রিজ ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শাপলাচত্বর থেকে স্টেশন রোড, ঘোড়াপীর থেকে রেলক্রসিং হয়ে ঢাকা-কুড়িগ্রাম রোডের সংযোগ সড়কের কাজ শুরুর পর মানুষ চরম দুর্দশায় কাটিয়েছে চারটি বর্ষাকাল।
উন্নয়নের বিপক্ষে নয় কেউ। কিন্তু দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ প্রলম্বিত এই দুর্ভোগ ‘উন্নয়ন’ শব্দটির প্রতি বিতৃষ্ণা এনে দিয়েছে এই পথ ধরে নিত্য চলাচলকারী মানুষের মনে।
সাধারণ মানুষ জানান, বিগত ৪-৫ বছর ধরে দেখতেছি আমাদের এই রাস্তা হবে, কিন্তু আমাদের এই রোডটা সংস্কার হচ্ছে না। বৃষ্টি আসলে অন্য রাস্তা হয়ে ঘুরে যেতে হবে।
শুরু থেকেই অস্বচ্ছতা, বারবার চুক্তি ভঙ্গের পরও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি, কাজের তুলনায় বাড়তি বিল দেয়াসহ নানা অভিযোগ কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখার প্রধান রংপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন স্বীকার করেছেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের রেজাউল ইসলাম মিলন সভাপতি বলেন, কাজ শেষ না করে কীভাবে ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠান টাকা তুলে নেয়। সেই প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বরাবরের মতো বিগত মেয়রের ওপর দায় চাপালেন বর্তমান নগর পিতা। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, আগের সিটি করপোরেশনের মেয়র কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে নাই।
সহসাই নগরবাসীর এই দুর্ভোগ দুর হচ্ছে না। দায়িত্ব নেয়ার এক বছর পার করে আরও এক বছর সময় চাইলেন মেয়র।

