সুমন ভৌমিকঃ একজন নীতিবান গরম অফিসার হিসাবে যার খ্যাতি ছিল তিনি হলেন এসআই দেবাশীষ। ময়মনসিংহ মডেল থানার অন্তর্গত ১নং পুলিশ ফাঁড়ির গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার এর দায়িত্ব পেয়েই তিনি হিমালয়ের শীতল হাওয়ার রূপ ধারণ করেন। যেন মিরাকল!
এসআই দেবাশীষ ১নং পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদান এক মাস কয়েকদিন। এরই মধ্যে দেখিয়ে দিয়েছেন যোগ্যতা কাকে বলে। ফাটাফাটি পারফরমেন্স! একটু বেশিই বলে ফেলেছি, না ঠিকই বলেছি। দেখা যাক গত এক মাসের সফলতা।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ কামাল আকন্দ এর নির্দেশে ১নং পুলিশ ফাঁড়ির প্রতিভাবান অফিসার ইনচার্জ দেবাশীষ সাহার তত্বাবধানে গত মে মাসের সফলতার ঝুলিতে ব্যাপক প্রাপ্তি। দেবাশীষ এর তত্বাবধানে গত মাসে ১নং পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ৮৫ জন আসামী বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। যা ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় রেকর্ড। যার মধ্যে ১১ জন আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয় ৮টি মাদক মামলায় ও উদ্ধার করা হয় হেরোইন ৪৮ গ্রাম, ইয়াবা ট্যাবলেট ১০০ পিস, ট্যাপেন্টা ট্যাবলেট ৪৬০০ পিস এবং ৪ জন আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয় ২টি চুরি মামলায় ও উদ্ধার করা হয় ৭টি ল্যাপটপ, ১টি সিপিইউ, ১১টি মোবাইল ফোন, ৪টি অটোরিকশা।

অন্যদিকে জিআর সাজা ওয়ারেন্ট তামিল ৪টি, সিআর সাজা ওয়ারেন্ট তামিল ১টি, জিআর ওয়ারেন্ট তামিল ৫টি, সিআর ওয়ারেন্ট তামিল ৪টি সহ সর্ব মোট ওয়ারেন্ট তামিল ১৪টি এবং অন্যান্যভাবে ওয়ারেন্ট খারিজ-জিআর সাজা ও/ডি ৩টি, জিআর সাজা রিকল ২টি সহ মোট সাজা ওয়ারেন্ট খারিজ ৫টি ও ভিকটিম উদ্ধার ৫ জন।

অপরদিকে প্রসিকিউশন ১২টি, নন এফআইআর প্রশিকিউশনে আসামী বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ ১০ জন ও ৭ জন আসামী বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ ৩টি দস্যুতা মামলায় এবং উদ্ধার করা হয় ৫টি চাকু। এছাড়া অন্যান্য মামলায় ৪৩ জন আসামী বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ সহ গত মে মাসে ৮৫ জন আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। সত্যিই ১নং পুলিশ ফাঁড়ির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় রেকর্ড। যা ১নং পুলিশ ফাঁড়ির প্রতিভাবান ইনচার্জ দেবাশীষ সাহা দায়িত্বে থাকায় সম্ভব হয়েছে বলে নগরবাসী মনে করেন।

ইনচার্জ দেবাশীষ সাহা একজন প্রতিভাবান, সদালাপী, নির্ভীক, কর্তব্যপরায়ণ, উদ্যমী ও দায়িত্বশীল চৌকস পুলিশ অফিসার। ১নং পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি মাদক নির্মূলে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফাঁড়ি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দিন-রাত পুলিশ টহল এর পাশাপাশি স্বয়ং তিনি ভোর ৪টা পর্যন্ত মাঠে অবস্থান করে বাড়ি ফিরেন। ভোর ৪টা পর্যন্ত মাঠে থাকা আলোচিত ঘটনা। যার ফলে তিনি সকলের নজর কেড়েছেন।
ইনচার্জ দেবাশীষ নিয়মমাফিক কার্যক্রম চালিয়ে অসংখ্য মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধী ও বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারিকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে ১নং ফাঁড়ি এলাকায় জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।

ইনচার্জ দেবাশীষ একজন অসাধারণ ভালো মনের মানুষ। তিনি সবসময় কাজকে ভালবাসেন এবং কোন বিপদগ্রস্থ লোক তার কাছে এলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মন জয় করে ফেলেন। এটা তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এখন তিনি গরম অফিসার নন। ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পেয়েই হিমালয়ের শীতল হাওয়ার রূপ ধারণ করে নিরালসভাবে কাজ করে সফলতা অর্জন করে যাচ্ছেন।

