একাত্তর বাংলাঃ ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম মোঃ ওয়ালিদের বিরুদ্ধে অনিয়মিত অফিস, সরকারী কাজে অনীহাসহ রাজস্ব তহবিলে ১৩ কোটি টাকা থাকার পরও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ না করায় উপজেলা পরিষদের সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ ও সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন পরিষদের দুই ভাইস চেয়ারম্যাসহ ২০জন সদস্য।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারী বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম মোঃ ওয়ালিদ দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত অফিস করছেন।
তিনি মাসে এক দুইদিন অফিস করেন। এরপরও তার রয়েছে সরকারী কাজ বাস্তবায়নে নানা ধরণের অনিহা। তার অনিহার কারণে যথা সময়ে মাসিক সভা হচ্ছেনা। যা অনেকটা নিয়মেই পরিণত হয়েছে। অভিযোগের মতে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে অক্টোবর/১৭, ডিসেম্বর/১৭, জানুয়ারী/১৮ মাসের মাসিক সভা হয়নি। একই সাথে ফেব্রুয়ারী/১৮ মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠানের সরকার নির্ধারিত তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পরও ফেব্রুয়ারী/১৮ মাসের মাসিক সভা সম্পর্কে অধ্যাবধি তার কাছ থেকে কোন ধরণের মতামত পাওয়া যায়নি। অরপদিকে এপ্রিল/২০১৬, মে/২০১৬. আগষ্ট/২০১৬, নভেম্বর/২০১৬, জুন/২০১৭ ও নভেম্বর/২০১৭ মাসের মাসিক সভা হলেও উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুমোদনের কারণে তার কার্যবিবরনী কমিটির সদস্যদের মাঝে সরবরাহ করা হয়নি।
তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনিহার কারণে উপজেলা পরিণষদের নিজস্ব রাজস্ব/উন্নয়ন তহবিলে ১৩ কোটিরও বেশী টাকা থাকার পরও কোন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ কিংবা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। একই সাথে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এডিপি কর্মসূচীর আওতায় গৃহিত প্রকল্পের তালিকা আজো প্রকাশ করা হয়নি। এডিপির উল্লেখিত প্রকল্পসমুহ সম্পর্কে পরিষদের সদস্য ও দুই ভাইস চেয়ারম্যানসহ ইউপি চেয়ারম্যানগণ অবহিত নন। যদি তিনি ৮/৬/১৭ তারিখের সভার কার্যবিবরনীভুক্ত করার নানা কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব/উন্নয়ন তহবিলে ১৩ কোটি টাকা থাকার পরও অর্থ বছরের ৮ মাসেও বিপুল এ টাকা দিয়ে কোন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। এই সাথে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী এডিপির বরাদ্ধকৃত অর্থ দ্ধারা কোন প্রকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের সর্বত্র উন্নয়ন আটকে রয়েছে। একাধিক নতুন নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের অভিযোগ শুধুমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যানের অনিহা, গাফিলতি এমনকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে হ্যায় করার পরিকল্পনা হিসাবে অর্থ থাকার পরও কোন ধরণের সভা না করে কৌশলে প্রকল্প গ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন। ফলে তারা নিজ এলাকায় কোন ধরণের উ্ন্নয়ন করতে পারছেন না। তাদের মতে, নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর হলেও কোন প্রকল্প তারা নিতে পারেনি। যার প্রধান কারণ উপজেলা চেয়ারম্যানের কারসাজি ও অনিহা। তাদের মতে, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি দলীয় নেতা কামরুল ইসলাম ওয়ালিদ সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে হীন রাজনীতির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে উপজেলার সার্বিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছেন।
উপজেলা পরিষদের তার নিজ দলীয় দুই ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১৩ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৬ নারী সদস্যসহ ২০ সদস্য বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগে উপজেলা পরিষদ ম্যানুয়েলের উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১১ এর ধারা ১৩(১)(ঘ) মোতাবেক এবং তার বিরুদ্ধে প্রযোজ্য হওয়ায় উল্লেখিত সদস্যগণ অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

