একাত্তর বাংলাঃ সবার জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নের নামে পুকুর, খাল, নদী ভরাট করা যাবেনা। সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন ৫৪ নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এসময় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের নামে আমরা দেখি প্রথমেই পুকুর ভরাট, খাল ভরাট বা নদী ভরাট হচ্ছে। এই কাজগুলেঅ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। দেখা যায়, যেখানে বিল ছিলো, সেখানে এমনভাবে ভরাট করা হয়, যে সেখানে আর কোনো পানিরই অস্তিত্ব থাকেনা। আগুন লাগলে পানিও পাওয়া যায় না। সবকিছু গড়ে উঠেছে পানির উপরে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে হবে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখাটা আমাদের সবচেয়ে প্রয়োজন। বন্যার সময় আমাদের হাওড়-বাওড় বিল অঞ্চলে যেন পানিটা ঠিকমতো প্রবেশ করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে যত রাস্তাঘাট হবে, প্রত্যেক রাস্তাঘাটে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্রিজ এবং কালভার্ট তৈরি করতে হবে। যাতে কোনোভাবেই আমাদের পানির গতি যেন থেমে না যায়।’
‘মানুষকে শিখতে হবে বন্যার সঙ্গে বসবাস করা। বন্যার ক্ষতিটা যেন না হয়, সেদিকে যেমন দৃষ্টি দেয়া, আবার বন্যার সুফল যাতে আমরা ভোগ করতে পারি, সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। শুধু উঁচু উঁচু বাঁধ তৈরি করে দিলেই কিন্তু নদী টিকবে না’, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন প্রসঙ্গও।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের যে অভিন্ন নদীগুলি, সেসব নদী সম্পর্কে আলোচনা করতে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কাজ করেছি। যৌথ নদী কমিশন, জেআরসিও গঠন করা আছে। আর তিস্তা নিয়েও আলোচনা চলছে।’

